মানুষের প্রতি তাঁর স্পষ্ট বার্তা - কেউ যেন কোনও উস্কানিতে পা না দেন। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, সকলকে একজোট হয়ে এই অত্যাচারি বিজেপিকে হারাতে হবে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 17 January 2026 16:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত দু’দিন ধরে অগ্নিগর্ভ বেলডাঙা (Beldanga Incident)। ঝাড়খণ্ডে বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ এবং বিহারে আর এক শ্রমিককে মারধরের ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় (Beldanga Protest)। জাতীয় সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর, উত্তেজনা - সব মিলিয়ে পরিস্থিতি রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। এই আবহেই শনিবার বহরমপুরে রোড শোর (Behrampur Road Show) পর জনসভায় বেলডাঙার ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)।
নাম না করেই নিজের দলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) নিশানা করেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত - বেলডাঙার সাম্প্রতিক অশান্তির (Beldanga Violence) নেপথ্যে রয়েছে বিজেপির মদতপুষ্ট এক ‘নতুন গদ্দার’। অভিষেকের কথায়, “বাংলায় নতুন এক গদ্দার তৈরি হয়েছে। বিজেপির (BJP) বাবুদের ইন্ধন আর মদতেই বেলডাঙায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন তৃণমূল সাংসদ (TMC MP) । তিনি বলেন, কোনও উস্কানিতে যেন কেউ পা না দেন। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। অভিষেকের স্পষ্ট আহ্বান - ধর্মে ধর্মে বিভাজন ঘটিয়ে যারা অশান্তি ছড়াতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে।
বেলডাঙার উত্তাল পরিস্থিতির (Beldanga Unrest) কথা মাথায় রেখে অনেকেই নাকি তাঁকে শনিবারের কর্মসূচি বাতিল করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। রোড শো বা সভা না করার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব নাকচ করেন অভিষেক। তিনি জানান, গত দু’দিন ধরে বেলডাঙায় যা ঘটছে, তার পিছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়েছেন।
অভিষেক বলেন, “সকাল থেকে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলেছি। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, এই ঘটনার পিছনে বিজেপির বাবুদের মদত রয়েছে এবং এই মাটিতে এক নতুন গদ্দার তৈরি হয়েছে। আমি আজ না এলে ওই গদ্দারদের আরও অক্সিজেন দেওয়া হত।”
এই প্রসঙ্গে বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে (Adhir Ranjan Chowdhuri) সরাসরি নিশানা করেন অভিষেক। পাশাপাশি নাম না করেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও (Suvendu Adhikari) আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ‘মীরজাফর’ প্রসঙ্গও।
বহরমপুরের মানুষের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা ছিল আরও তীব্র। তিনি বলেন, “একজন গদ্দার, একজন মীরজাফর আর একজন বিজেপির ডামি ক্যান্ডিডেটকে আপনারা বিদায় দিয়েছেন। এবার এই নতুন গদ্দারকেও হারাতে হবে।”
ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে অভিষেক বলেন, যারা ধর্মে ধর্মে যুদ্ধ লাগিয়ে মানুষকে একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদকে এক হতে হবে। তাঁর দাবি, মুর্শিদাবাদ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসকে ২৫০-র বেশি আসন পাওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারবে না।
বেলডাঙার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই অভিষেকের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও বিতর্ক উস্কে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।