দোকানের ফ্রিজ খুলতেই বেরিয়ে আসে বাসি মাংস। রং ও গন্ধ দেখেই স্পষ্ট, তা খাওয়ার সম্পূর্ণ অযোগ্য। সঙ্গে সঙ্গে ওই মাংস ফেলে দেওয়া হয়।
.jpeg.webp)
এআই ছবি।
শেষ আপডেট: 8 January 2026 20:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরিয়ানি মানেই আনন্দ (Biryani)! কিন্তু সেই প্লেটেই যদি লুকিয়ে থাকে বিপদ! বাসি ও পচা মাংস ব্যবহার করে বিরিয়ানি বিক্রির অভিযোগে জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) শহরে আচমকা অভিযান চালাল ফুড সেফটি ও ক্রেতা সুরক্ষা দফতর (Food Safety Raid)। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের একাধিক বিরিয়ানির দোকানে হানা দেন আধিকারিকরা। অভিযানে গিয়ে ডিবিসি রোডের একটি বিরিয়ানির দোকানে এমন চিত্র ধরা পড়ে, যা দেখে রীতিমতো চমকে ওঠেন আধিকারিকেরা।
দোকানের ফ্রিজ খুলতেই বেরিয়ে আসে বাসি মাংস। রং ও গন্ধ দেখেই স্পষ্ট, তা খাওয়ার সম্পূর্ণ অযোগ্য। সঙ্গে সঙ্গে ওই মাংস ফেলে দেওয়া হয়। দোকান মালিককে কড়া ভাবে ধমক দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
অভিযানের সময় সামনে আসে আরও একটি গুরুতর অনিয়ম। ওই দোকানেই একসঙ্গে মটন ও চিকেন রান্না করা হচ্ছিল। খাদ্য সুরক্ষা বিধি অনুযায়ী, আলাদা আলাদা ভাবে এই দুই ধরনের মাংস রান্না করার নিয়ম। কারণ একসঙ্গে রান্না হলে সংক্রমণের আশঙ্কা যেমন থাকে, তেমনই খাবারের মানও নষ্ট হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করার নির্দেশ দেন আধিকারিকরা।
জলপাইগুড়ির ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের সহকারী অধিকর্তা দেবাশিস মণ্ডল জানান, “খাবারের মান নিয়ে কোনও আপস করা যাবে না। বাসি বা পচা মাংস মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। এদিন অভিযানে তার প্রমাণ মিলেছে। দোকান মালিককে কড়া ভাবে সতর্ক করা হয়েছে। আবার এমন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই শহরের কয়েকটি বিরিয়ানির দোকান নিয়ে অভিযোগ আসছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এদিন আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। শুধু ওই দোকানই নয়, শহরের আরও কয়েকটি বিরিয়ানির দোকানেও তল্লাশি চালানো হয়। কোথাও বড় অনিয়ম ধরা না পড়লেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও খাবার সংরক্ষণ নিয়ে একাধিক দোকানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফুড সেফটি দফতর জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই এই ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, প্রিয় বিরিয়ানি খাওয়ার আগে এবার কি আরও একটু বেশি সাবধান হওয়া দরকার নয় কি?