এবার ধৃত ২৪ জন। তিন দিনে মোট তিনটি ট্রলার— ধরা পড়লেন ৭৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক (Fisherman)। অভিযোগ, প্রত্যেকেই ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘন করে ঢুকে পড়েছিলেন সুন্দরবন উপকূলে।

আটক মৎস্যজীবীরা
শেষ আপডেট: 18 November 2025 13:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশি ট্রলার (Bangladeshi) আটকাতে যেন রোজ একই দৃশ্য। গত রবিবার সন্দেহজনক নৌকা-সহ ২৯ জনকে ধরার পর, সোমবার ফের বঙ্গোপসাগরের জলসীমা পেরিয়ে ঢুকে পড়া আর এক বাংলাদেশি ট্রলার আটক করল ভারতের উপকূল রক্ষীবাহিনী (Bangladeshi Fisherman)। এবার ধৃত ২৪ জন। তিন দিনে মোট তিনটি ট্রলার— ধরা পড়লেন ৭৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক (Fisherman)। অভিযোগ, প্রত্যেকেই ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘন করে ঢুকে পড়েছিলেন সুন্দরবন উপকূলে।
সূত্রের খবর, সোমবার বিকেলে ‘নূর-ই-মদিনা’ নামে একটি ট্রলার ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়ে। মাঝরাতে ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরে নিয়ে গিয়ে ওই ২৪ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় কোস্ট গার্ড। তবে ধৃতেরা আদৌ মৎস্যজীবী, নাকি ছদ্মবেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, তা নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠছে তদন্তকারীদের মধ্যে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নতুন করে আটক হওয়া দলের সঙ্গে আগের দু’দিনে ধরা পড়া বাংলাদেশিদের কোনও যোগ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই ধরনের অনুপ্রবেশ তিন দিনে তিন বার, প্রশাসনের অন্দরেও বাড়ছে উদ্বেগ।
ঠিক এই সময়েই রাজ্যে রাজনৈতিক তাপমাত্রা চরমে উঠেছে। একদিকে এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূল-বিজেপি উত্তপ্ত, অন্যদিকে বাংলাদেশে শেষ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘিরে অশান্ত পরিস্থিতি। ফলে সীমান্তে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না নিরাপত্তা মহল।
গোটা সীমান্ত জুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। জলসীমাতেও কোস্ট গার্ডের টহল আরও জোরদার। গোয়েন্দাদেরও তৎপরতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে। প্রশাসনের দাবি, কোনওভাবেই যাতে পরিস্থিতি হাতের বাইরে না যায়, তার জন্য ২৪ ঘণ্টাই কড়া নজরদারি চলছে।
বস্তুত, আন্তর্জাতিক জলসীমান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে মাস চারেক আগে বাংলাদেশি নৌসেনার হাতে আটক হয়েছিলেন সুন্দরবনের এক মৎস্যজীবী। জেলেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে মৃতের বাড়িতে সেই খবর এসে পৌঁছেছে। তার পর থেকে শোকে ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। তাঁদের দাবি, স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে ওই মৎস্যজীবীকে।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সংসারের হাল ধরতে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতেন বাবুল। গত জুলাই মাসে ‘এফবি ঝড়’ এবং ‘এফবি মঙ্গলচণ্ডী ৩৮’ নামে দু’টি ট্রলারে চেপে কাকদ্বীপ থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরের গভীরে পাড়ি দেন বাবুল-সহ বেশ কয়েক জন মৎস্যজীবী। কিন্তু ভুল করে তাঁরা বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পড়েন।