ভারতীয় নাগরিকত্ব বা বসবাসের অনুমতির কোনও প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন। এরপরেই তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়। কল্যাণী আদালত তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। যে স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে তিনি ভাড়া থাকতেন, তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

শেষ আপডেট: 3 November 2025 19:26
দ্য় ওয়াল ব্য়ুরো, নদিয়া: এক বাংলাদেশি ব্লগারের গ্রেফতার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গয়েশপুরে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ব্যক্তির নাম মুফতি আবদুল্লা আল মাসুদ। পুলিশসূত্রে জানা গেছে, তিনি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসেন এবং ২০২০ সালে তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আত্মগোপন করে বসবাস করছিলেন।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি তিনি গয়েশপুরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে চাকদার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে ভাড়া ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসুদ এলাকায় খুব একটা মেলামেশা করতেন না এবং তাঁর চলাফেরাও ছিল সন্দেহজনক। কয়েকদিন আগে পুলিশের কাছে তাঁর সম্পর্কে তথ্য আসে। সেই সূত্র ধরে গয়েশপুর ফাঁড়ির পুলিশ তাঁকে আটক করে কল্যাণী থানায় নিয়ে যায়। এরপর রাজ্য পুলিশের বিশেষ দল, সিআইডি, ডিআইবি এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল বৈধ কাগজপত্র দেখানোর জন্য। কিন্তু তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব বা বসবাসের অনুমতির কোনও প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন। এরপরেই তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়। কল্যাণী আদালত তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। যে স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে তিনি ভাড়া থাকতেন, তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাসুদ বাংলাদেশি নাগরিক, তা জানতেই পারেননি তাঁরা। তদন্তে জানা গেছে, মাসুদ বাংলাদেশে ধর্মীয় বিষয়ে সক্রিয় ব্লগার ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে ধর্মীয় প্রচার চালানোর কারণে তিনি এক সময় দেশে রোষের মুখে পড়েন এবং প্রাণ বাঁচাতে ভারতে পালিয়ে আসেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি আর দেশে ফিরে যাননি। তবে তাঁর প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ভারতে অবস্থানের কারণ নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এখনই সমস্ত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই গয়েশপুরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।