এদিনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি গাভাই বলেন, আদালত এখনই এই মামলায় তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। তবে তিনি জানান, চার সপ্তাহ পর আবার এই মামলার শুনানি হবে।

সুপ্রিম কোর্ট (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 3 November 2025 19:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ করার দাবিতে দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) স্পষ্ট জানাল, তারা এই মুহূর্তে সেই আবেদন গ্রহণে অনিচ্ছুক। নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে শীর্ষ আদালত বলে, “নেপালে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় কী ঘটেছিল, সেটা দেখুন।” সেখানে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করতে গিয়ে ‘জেন জি’ সরকারবিরোধী সহিংস আন্দোলনে নেমেছিল। এরপর কার্যত তছনছ হয়ে যায় গোটা দেশ।
গত সেপ্টেম্বরে প্রতিবেশী দেশ নেপালে (Nepal) তৎকালীন সরকার সোশ্যাল মিডিয়া-সহ পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ করার পর ‘জেন জি’ প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়ায়। তারা দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন, যার ফলে দেশজুড়ে দেখা দেয় এক চরম অস্থিরতা।
এদিনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি গাভাই বলেন, আদালত এখনই এই মামলায় তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। তবে তিনি জানান, চার সপ্তাহ পর আবার এই মামলার শুনানি হবে।
মামলাকারীর দাবি, সরকার যেন পর্নোগ্রাফি বন্ধ করতে একটি জাতীয় নীতি তৈরি করে এবং কড়া ব্যবস্থা নেয়। বিশেষ করে ১৮ বছরের নীচে যাদের বয়স, তাদের জন্য এমন ভিডিও বা কনটেন্ট দেখা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা দরকার। তাঁর মতে, এখন সবাই, শিক্ষিত বা অশিক্ষিত- সহজেই ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, আর এখন এক ক্লিকেই সবকিছু দেখা যায়।
আবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের তথ্য অনুযায়ী ইন্টারনেটে বহু ওয়েবসাইট আছে যারা কোটি কোটি পর্নোগ্রাফি ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে করোনার সময় থেকেই অনেক পড়ুয়াই অনলাইনে বেশি সময় কাটাতে শুরু করে, ফলে তারা সহজেই এসব কনটেন্টে ঢুকে পড়ছে, যেটা নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ, পিতা-মাতা বা অভিভাবকদের জন্য এমন সফটওয়্যার রয়েছে যা শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে পারে বা তাদের কার্যকলাপ ট্র্যাক করতে পারে।
মামলাকারীর দাবি, দেশে প্রায় ২০ কোটি পর্নোগ্রাফিক ভিডিও বা ক্লিপ সহজে পাওয়া যায়, যার মধ্যে শিশু নির্যাতনের ভিডিওও রয়েছে। তিনি আদালতকে জানান, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারায় সরকার চাইলে এই ধরনের ওয়েবসাইট বন্ধ করতে পারে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি চার সপ্তাহ পরে হবে।