দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদে যুক্ত ছিলেন বৈশালী। ছিলেন হুগলি জেলা যুব তৃণমূলের প্রাক্তন সহ-সম্পাদক।

রাজন্যা হালদার ও বৈশালী দাশগুপ্ত।
শেষ আপডেট: 9 July 2025 20:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজন্যা হালদার (Rajnya Halder) উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তৃণমূলকে কালিমালিপ্ত করতে চাইছেন, এমনটাই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তাঁর প্রাক্তন বান্ধবী, জয়ী ব্যান্ডের সদস্য তথা তৃণমূল নেত্রী বৈশালী দাশগুপ্ত (Baishali Dasgupta)।
দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদে যুক্ত ছিলেন বৈশালী। ছিলেন হুগলি জেলা যুব তৃণমূলের প্রাক্তন সহ-সম্পাদক। জয়ী ব্যান্ড গঠনের পর থেকে একাধিক দলীয় মঞ্চে গান গেয়েছেন তিনি। রাজন্যার সঙ্গে সেই সময় থেকেই বন্ধুত্ব। বহু অনুষ্ঠান, বহু সফর গভীর ছিল সেই সম্পর্ক। আর সেই প্রাক্তন বন্ধু এখন অভিযোগ করছেন, “রাজন্যা আজ যেটা করছেন, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এমন করছেন।”
চুঁচুড়ায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বৈশালী বলেন, “২০২৩ সালের ২১ জুলাই রাজন্যা সভামঞ্চে বক্তব্য রেখেছিল। সেটা সম্ভব হয়েছিল জয়ী ব্যান্ডের সদস্য হওয়ায়। তার পরে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীর খুব কাছাকাছি গিয়েছে। কথা বলেছে। অথচ এখন দাবি করছে, AI-ছবি বিকৃতির ঘটনা মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে পারেনি! এই দাবিটাই সর্বৈব মিথ্যা।”
রাজন্যার অভিযোগ ছিল, মনোজিৎ মিশ্রর মতো নেতার বিরুদ্ধে মুখ খুললে তাঁকে দমন করা হয়েছে, এবং বহু ছাত্রী নেতা-নেত্রীদের থেকেই আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বৈশালীর মন্তব্য, “একজন মনোজিৎ-এর দোহাই দিয়ে ছাত্রপরিষদকে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে। যেন তৃণমূলের মধ্যেই মেয়েরা নিরাপদ নয়— এই ভ্রান্ত ধারণা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। বাস্তব কিন্তু একেবারেই তা নয়।”
রাজন্যার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বৈশালী। জানান, “বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর রাজন্যার বাবা সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন। রাজন্যা নিজে লোকসভা ভোটের আগে বলেছিল বিজেপি নাকি তাকে টিকিট দেবে। তবে কোথা থেকে বা কারা দেবে— সেটা বলেনি।”
রাজন্যা নিজের জীবনের ঘটনা নিয়ে একটি বিতর্কিত ছবি তৈরি করেন। দলের অনুমতি ছাড়াই। সেই সময় বলেছিলেন, ‘নেত্রী রাজন্যা’ আর ‘অভিনেত্রী রাজন্যা’ আলাদা। এরপরেই তাঁকে সাসপেন্ড করে দল। সেই ‘হঠাৎ পতন’ তিনি মেনে নিতে পারেননি বলেই এমন প্রতিহিংসামূলক পথে হাঁটছেন— এমনই মত বৈশালীর।
মনোজিৎ মিশ্র ও রাজন্যার স্বামীর সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন বৈশালী। বলেন, “রাজন্যার স্বামীর মনোজিতের সঙ্গে ছবি রয়েছে। তাঁরা ভাল বন্ধু ছিলেন। তাই এখন যেটা দেখাতে চাইছে, সেটা পুরোপুরি সাজানো। কসবার ঘটনার মতো ঘটনায় দল বা নেতৃত্ব কেউই সমর্থন করেননি। অথচ এমনভাবে বলা হচ্ছে যেন গোটা দল মনোজিতে ভরা!”
শেষে বৈশালীর খোঁচা— “মনোজিৎ মিশ্র যখন দলের পদ পেয়েছেন, তার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তার আগে তো কোনও অভিযোগ শোনা যায়নি!” এখন দেখার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রাজন্যা কী বলেন।