অভিযোগ, ঘাটের পারে রয়েছে বসতি। সেখানে ড্রেন না থাকায় ঘাটের উলটো দিকে থাকা বাড়ির বাসিন্দাদের শৌচালয়ের জল বছরের পর বছর ধরে এই নালাতে মিশছে। আর ওই নোংরা জলকে একরকম বাধ্য হয়ে পবিত্র গঙ্গা জলরূপে মেনে নিয়ে সেখানে ছট পুজো, বিয়ে কিংবা অন্নপ্রাশনের গঙ্গা নিমন্ত্রণ, সব কিছু করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শেষ আপডেট: 18 December 2025 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: গঙ্গাজল জ্ঞানে শৌচালয়ের জলে হচ্ছে মাঙ্গলিক কাজ। এই নিয়ে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভাকে দুষছেন এলাকার মানুষজন।
হলদিবাড়ি শহরের কাছেপিঠে কোনও নদী নেই। শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে তিস্তা নদী। কিন্তু শহরকে মাঝ বরাবর চিড়ে দিয়ে বয়ে গেছে কালী নালা। শহরের বাসিন্দাদের বিয়ে, অন্নপ্রাশন থেকে শুরু করে যে কোনও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান, এমনকি দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন থেকে শুরু করে শ্রাদ্ধের ঘাটকাজ, সব এই কালী নালার ঘাটে হয়ে থাকে।
অভিযোগ, ঘাটের পারে রয়েছে বসতি। সেখানে ড্রেন না থাকায় ঘাটের উলটো দিকে থাকা বাড়ির বাসিন্দাদের শৌচালয়ের জল বছরের পর বছর ধরে এই নালাতে মিশছে। আর ওই নোংরা জলকে একরকম বাধ্য হয়ে পবিত্র গঙ্গা জলরূপে মেনে নিয়ে সেখানে ছট পুজো, বিয়ে কিংবা অন্নপ্রাশনের গঙ্গা নিমন্ত্রণ, সব কিছু করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তৃণমূল পরিচালিত পৌর কর্তৃপক্ষকে বার বার জানিয়েও কোনও লাভ না হয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসীরা। স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম চন্দ বলেন, "কালী নালার জল দূষিত। কিন্তু এই নালা সংস্কার করা নিয়ে বহুবার বলা হয়েছে। কিন্তু কোনও লাভ হয় না। শহরের বাসিন্দারা এটাকেই মেনে নিয়েছেন।"
যেসব বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের একজন রবিউল গনি প্রধান বলেন, "একথা ঠিক যে আমাদের কিছু বাড়ির শৌচালয়ের জল কালী নালায় পড়ে। আমাদের ড্রেন না থাকায় এই সমস্যা হচ্ছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভাকে ড্রেন তৈরির কথা জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনও লাভ হচ্ছে না। আমরাও চাই কালী নালা দূষণমুক্ত থাকুক।"
অমিত রক্ষিত নামে স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "একসময় এই নালার পারে বসতি ছিল না। ধীরে ধীরে বসতি হওয়ার পর সমস্যা শুরু। এখন ওই বসতির মানুষের শৌচালয়ের জল এই নালা দিয়ে যায়। এই জল দিয়েই আবার মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান হয়। যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। আসলে মূল সমস্যা হল অপরিকল্পিত উন্নয়ন।
বিজেপির হলদিবাড়ি শহর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ মল্লিক বলেন, "হলদিবাড়ি মানুষকে পরিষেবা দিতে ব্যর্থ তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা। সরকার থেকে টাকা আসে আর এরা সেই টাকা লুঠপাট করে খায়। এই সরকারের বদল না হলে উন্নয়ন হবে না।"
সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন তৃণমূল পরিচালিত হলদিবাড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অমিতাভ বিশ্বাস। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দাদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিয়ে বলেন, "আসলে হলদিবাড়ি E GRADE পৌরসভা। ওই এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা- সহ কালী নালা সংস্কার করতে যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন তা আমাদের নেই। কিন্তু এই কাজের জন্য প্ল্যান এস্টিমেট আমরা ইতিমধ্যে মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইরেক্টরেটে এবং চ্যাংরাবান্ধা ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কাছে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে ছাড়পত্র এখনও আসেনি।"