চাকুলিয়ার ঘটনার পর উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের ও গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 15 January 2026 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফারাক্কায় মঙ্গলবার, চাকুলিয়ায় বুধবার। এসআইআর (SIR's work) ঘিরে পর পর দু’দিন অশান্তির ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ। মালদহের ফারাক্কার পর উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায় বিডিও অফিসে (BDO office) ভাঙচুর, পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় নির্বাচনী কাজে যুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল সরাসরি রাজ্যের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির (Chief Secretary-DG) সঙ্গে কথা বললেন।
একের পর এক হামলার ঘটনায় এসআইআর-এর কাজ থমকে যাবে কি না, এই প্রশ্নে উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে সিইও স্পষ্ট বলেন, “কাজ বন্ধ হবে না। মুখ্যসচিব ও ডিজির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কথা হয়েছে। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা করা হবে।”
নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সূত্রে খবর, চাকুলিয়ার ঘটনার পর উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের ও গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কমিশনের আশঙ্কা, বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ফলে এসআইআর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ফারাক্কার ঘটনা প্রসঙ্গে সিইও জানান, সেখানে ইতিমধ্যেই এফআইআর হয়েছে এবং ৬ জন গ্রেফতার হয়েছে। তদন্ত চলছে নিয়ম মেনেই। “পুলিশ আদালতের কাছে দায়বদ্ধ,” মন্তব্য তাঁর।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ‘হয়রানি’র অভিযোগও নাকচ করেছেন সিইও। তাঁর দাবি, শুনানি ও লিখিত আদেশ ছাড়া কোনও নাম বাদ যাবে না। কারও নাম বাদ পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিত আদেশ পাঠানো হবে। পাশাপাশি দু’টি সুযোগ থাকবে— একবার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে, আর একবার রাজ্যের সিইও-র কাছে আপত্তি জানানোর।
নাম কাটার প্রচারকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করে সিইও বলেন, “যথাযথ নথি থাকলে কারও নাম বাদ যাবে না।” তিনি জানান, এসআইআর গত দু’তিন মাস ধরেই চলছে। “এক–দুটি ঘটনা ঘটলেও সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে,” মন্তব্য তাঁর।
এদিকে বুধবার নজরুল মঞ্চে নতুন এইআরও (AERO) দের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সিইও জানান, শুনানির সংখ্যা বাড়ছে বলেই আরও প্রায় ১৫০০ এইআরও নিয়োগ করা হচ্ছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়। এইআরও-রা মাইক্রো অবজারভারদের সঙ্গে থাকবেন। আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব থাকবে রাজ্য পুলিশের হাতেই, মাইক্রো অবজারভাররা শুধু প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবেন।
প্রসঙ্গত, বুধবার মালদহের ফারাক্কায় বিডিও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে শাসকদলের একাংশের বিরুদ্ধে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার চাকুলিয়ায় একই ছবি। বিক্ষোভ সামলাতে গিয়ে আক্রান্ত হন পুলিশকর্মীরা। ইটের আঘাতে মাথা ফেটে যায় চাকুলিয়া থানার আইসির। শুধু পুলিশ নয়, অভিযোগ অনুযায়ী বিডিও অফিসের ভিতরে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথিও তছনছ করা হয়।
চাকুলিয়ার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এসআইআর চলাকালীন পুলিশ ও প্রশাসনের উপর সংগঠিত হামলার অভিযোগে দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করতে বলা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
ফর্ম–৭ নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গেও কমিশনের বার্তা স্পষ্ট, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই কাজ হচ্ছে। রাজনৈতিক উত্তাপ থাকলেও এসআইআর প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ভাবেই চলবে, এমনটাই জানাচ্ছে কমিশন।