পুলিশ জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে সভাস্থলে ব্যাগ নিয়ে ঢোকার অনুমতি নেই। ফলে প্রবেশপথে দাঁড়িয়েই অনেক কর্মীকে আটকে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন বহু কর্মী-সমর্থক।

ব্রিগেডে প্রস্তুতি - নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 14 March 2026 11:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) দিন ঘোষণার জল্পনার মাঝেই শনিবার কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে (West Bengal BJP Brigade Rally) সভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi Rally At Brigade)। তার আগে থেকেই শহরের অন্যতম বৃহত্তম সমাবেশস্থলে জমতে শুরু করেছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাঁরা ব্রিগেডে পৌঁছতে শুরু করেছেন। তবে সভা শুরুর আগেই সেখানে পুলিশের সঙ্গে বেশ কিছু কর্মীর বচসা বাঁধে।
বিতর্কের সূত্রপাত ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা ঘিরে। পুলিশ জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে সভাস্থলে ব্যাগ নিয়ে ঢোকার অনুমতি নেই। ফলে প্রবেশপথে দাঁড়িয়েই অনেক কর্মীকে আটকে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন বহু কর্মী-সমর্থক।
পুলিশের দাবি, যাঁরা ব্যাগ নিয়ে এসেছেন তাঁদের জন্য আলাদা কাউন্টার রাখা হয়েছে। সেখানে ব্যাগ জমা রেখে সভাস্থলে ঢোকা যাবে। কিন্তু এই ব্যবস্থায় আস্থা দেখাতে রাজি নন অনেকেই। তাঁদের বক্তব্য, নিরাপত্তার অজুহাতে বাইরে ব্যাগ জমা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই ব্যাগ পরীক্ষা করে সভাস্থলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত বলেই দাবি তুলেছেন তাঁরা।
কর্মীদের আরও অভিযোগ, ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ - এই নির্দেশ আগে থেকে জানানো হয়নি। ফলে অনেকেই বিষয়টি জানতেন না। আগে জানানো হলে তাঁরা ব্যাগ ছাড়াই সভাস্থলে আসতেন বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মী।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গোটা ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছেন রাজ্য পুলিশের এডিজি (কোস্টাল) হরিকিশোর কুসুমাকার। সভাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় তিন হাজার পুলিশকর্মী।
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশ উপলক্ষে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪০ হাজারেরও বেশি চেয়ার বসানো হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও প্রায় দুই লক্ষ মানুষের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে মাঠে। দলের দাবি, সভায় উপস্থিতির সংখ্যা সেই ব্যবস্থাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।
সমাবেশে উপস্থিত মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বড় পর্দারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে বসানো হয়েছে ৩৫টি বড় স্ক্রিন, যাতে দূরে বসে থাকা মানুষও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য স্পষ্টভাবে দেখতে ও শুনতে পারেন।
এদিকে, মোদীর জন্য বাঁধা মঞ্চের ছত্রে ছত্রে রয়েছে বাঙালিয়ানার ছোঁয়াও। কোচবিহারের রাজবাড়ি, বাঁকুড়ার টেরাকোটার ঘোড়া, উত্তরবঙ্গের জঙ্গল থেকে দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দির - বিজেপির ব্রিগেডের মঞ্চের কোণায় কোণায় বাঙালিয়ানার আধিপত্য। বাঙালি অস্মিতায় শান দিতে মঞ্চের ব্যাকগ্রাউন্ডেই রাখা হয়েছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের কাটআউট।
তৃণমূল কংগ্রেস বারংবার অভিযোগ করে যে, বিজেপি বাংলা বিরোধী, বাঙালি সম্পর্কে কিছুই জানে না। কিন্তু ব্রিগেডের মঞ্চের রূপ দেখে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, ভোটের আগে তৃণমূল নির্মিত এই তত্ত্ব খণ্ডন করতে চাইছে বিজেপি। স্বয়ং মোদীই বার্তা দিতে চাইছেন - আমি তোমাদেরই লোক।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিকল্পনার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে একটি স্পষ্ট বার্তা। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে, বিজেপি নাকি বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতি সম্পর্কে উদাসীন। সেই অভিযোগ নস্যাৎ করতেই এবার বিজেপি নিজেদের ভিন্নভাবে তুলে ধরতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।