হাইকোর্টের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Biman Bandyopadhyay)। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সেই তালিকা থেকে বাদ থাকছেন।

বিধানসভা।
শেষ আপডেট: 1 September 2025 12:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ থেকে সব মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা বিধানসভার বাইরে থাকবেন, এমনই সিদ্ধান্তের কথা জানালেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। হাইকোর্টের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই তালিকা থেকে বাদ থাকছেন। তিনি নিরাপত্তারক্ষী নিয়েই ঢুকবেন বিধানসভায়।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই এই নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, তৃণমূল বিধায়কেরা ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু বিজেপি বিধায়কদের ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম। তাঁদের সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীদের বিধানসভা ভবনের ভিতরে ঢোকার অনুমতি নেই। রক্ষীদের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
এই বৈষম্যের অভিযোগ তুলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে আদালত জানায়, নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে সরাসরি আদালত কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। তবে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন— “নিয়ম সবার জন্য একই হওয়া উচিত।”
শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি বিধায়কদের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিধানসভার ভিতরে এ বাহিনীর সদস্যদের প্রবেশে স্পিকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল বিধায়কেরা নির্বিঘ্নে পুলিশি নিরাপত্তাসহ বিধানসভায় ঢুকতে পারছেন। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা।
শেষমেশ সেই মামলায় আদালতের ‘সম-নিয়মের’ নির্দেশ মেনে, সিদ্ধান্তের কথা জানালেন স্পিকার। সকলের নিরাপত্তারক্ষীরই ভিতরে ঢোকা বন্ধ করার কথা বললেন। এদিন বিমানবাবু বলেন, 'হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এবার থেকে বিধানসভায় কোনও নিরাপত্তা কর্মীই প্রবেশ করতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কারও কোনও নিরাপত্তা রক্ষী থাকবেন না বিধানসভার অন্দরে।'
ফলে আজ, সোমবার থেকে একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আর কোনও মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীই বিধানসভায় ঢুকতে পারবেন না। এই মর্মে এদিন নোটিসও দেওয়া হয়েছে বিধানসভায়।
ঘটনার সূত্রপাত, গত বছরের অগস্টে শুভেন্দু যখন বিধানসভার ভিতর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসছিলেন, তখন তাঁকে লক্ষ্য করে কিছু প্রশ্ন করতে দেখা গিয়েছিল পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়কে। ওই ঘটনায় কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডাও চলে দু'জনের মধ্যে। সেই সময় তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় তাঁকে ধাক্কা মারেন বলে অভিযোগ করেছিলেন শুভেন্দু। এ ব্যাপারে বিজেপি বিধায়কদের নিরাপত্তা চেয়ে পদ্মশিবিরের তরফে স্পিকারকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ, এ ব্যাপারে স্পিকার কোনও কর্ণপাত করেননি। বিরোধী দলনেতা কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। এরপরই সেই বাহিনীর জওয়ানদের বিধানসভার অভ্যন্তরে প্রবেশের আর্জি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন শুভেন্দু।