আদালতে দাবি করা হয়েছিল, বিধানসভার ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকতে না দেওয়ার নিয়ম থাকলেও শাসক দলের জন্য আলাদা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 28 August 2025 14:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভায় (Bidhansabha) নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় তৃণমূল ও বিরোধী শিবিরের যুক্তির মাঝে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি অমৃতা সিনহার (Justice Amrita Sinha)। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট জানালেন, বিধানসভার অধ্যক্ষকে সকল সদস্যকে সমানভাবে দেখতে হবে। কোনও ভেদাভেদ চলবে না। নিরাপত্তা কিংবা বিশেষ সুবিধার ক্ষেত্রে আলাদা আইন হতে পারে না।
শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই মামলা করেছিলেন বিধানসভায় বিরোধীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, একদিকে বিরোধী দলের বিধায়কদের নিরাপত্তা সীমিত করে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে রাজ্যের শাসক দলের বিধায়ক ও মন্ত্রীদের জন্য আলাদা বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে। আদালতে তাঁদের দাবি, বিধানসভার ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকতে না দেওয়ার নিয়ম থাকলেও শাসক দলের জন্য আলাদা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যত্তুরে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, বিধানসভার নিয়মে মন্ত্রী ও বিধায়কদের জন্য আলাদা কোনও ধারা নেই। সংসদের মতোই এখানে একই নিয়ম প্রযোজ্য। কিছু আলাদা ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু তার ভিত্তিতে নতুন নিয়ম তৈরি করা যায় না।
শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী বিল্লদল ভট্টাচার্য পাল্টা দাবি করেন, বিধানসভার সেক্রেটারিই জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী (সিআইএসএফ বা সিআরপিএফ) বিধানসভায় প্রবেশ করতে পারবেন না। তাহলে শাসক দলের জন্য আলাদা ব্যতিক্রম কেন?
সব বক্তব্য শোনার পরে বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন, “প্রত্যেক বিধায়কই সমান। অধ্যক্ষের দায়িত্ব হল তাঁদের একই দৃষ্টিতে দেখা। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে ভেদাভেদ চলতে পারে না। নিয়ম অনুযায়ী বুলেটিন প্রকাশ করতে হবে। একবার আইন যা স্থির হয়েছে, তা সব সদস্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।”
এদিনের শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করে দিল, বিধানসভায় নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনও রাজনৈতিক বিভাজন মানা হবে না। এখন দেখার বিষয়, অধ্যক্ষ কীভাবে আদালতের এই নির্দেশ কার্যকর করেন।