পোশাক-পরিচয়পত্র কিছুই নেই। তবুও সব বাধা উপেক্ষা করে চলে এসেছেন কমিউনিটি হলে। আশ্রিতদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যার কথা শুনছেন৷ আশাকর্মী হিসেবে যতটা তাঁর পক্ষে সম্ভব, কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আশাকর্মী শান্তি তামাং
শেষ আপডেট: 6 October 2025 20:03
দুধিয়ার ব্রিজ সংল্পগ্ন গ্রামের বাসিন্দা শান্তি তামাং। বয়স ৩৬। পরিবারে তিনি আর তাঁর ছোট্ট একটি মেয়ে। শনিবার রাতের প্রবল বৃষ্টিতে আরও অনেকের মতোই ভেসে গিয়েছে শান্তি তামাংয়ের বাড়ি। আসবাবপত্র, পোশাক, গৃহস্থালীর খুঁটিনাটি কিছুই বাঁচাতে পারেননি তিনি। ভয়ঙ্কর সেই পরিস্থিতিতে ছোট মেয়েকে নিয়ে কোনওমতে প্রাণে বেঁচেছেন। আপাতত এক আত্মীয়র বাড়িতে রয়েছেন তিনি। কিন্তু যেই এলাকায় মেডিক্যাল ক্যাম্প হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে ছুটে এসেছেন। তিনি যে আশাকর্মী।
পোশাক-পরিচয়পত্র কিছুই নেই। তবুও সব বাধা উপেক্ষা করে চলে এসেছেন কমিউনিটি হলে। আশ্রিতদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যার কথা শুনছেন৷ আশাকর্মী হিসেবে যতটা তাঁর পক্ষে সম্ভব, কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শান্তি বলেন, "আশাকর্মীর পোশাক-পরিচয়পত্র সবই বালাসনের জলে তলিয়ে গিয়েছে। তাই ঘরের পোশাকেই চলে এসেছি। বাড়িতে একমাত্র উপার্জনকারী আমি। মেয়েকে নিয়ে আমার সংসার। আমার আজ যা পরিস্থিতি আমার প্রতিবেশীদেরও সেই একই পরিস্থিতি। কাজেই তাদের পাশে দাঁড়াতেই আমি সমস্ত বাধা পেরিয়ে কমিউনিটি হলে চলে এসেছি। দায়িত্ব থেকে সরে আসা যাবে না।"
শান্তির এই মনোবল ও সাহস ভরসা জোগাচ্ছে বাকিদের। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মীরাও শান্তির উদ্যোগকে কুর্নিশ জানাচ্ছে। কার্শিয়ঙের বিএমওএইচ ডাক্তার চিত্রলেখা সর্দার বলেন, "এই বিপর্যয়ে শান্তির মতো মহিলারা অন্যদেরও পথ দেখাচ্ছেন। সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজছেন তাঁরা।"
তিনি জানান, বৃষ্টিতে যাঁদের ঘর ভেসে গেছে, সেই সমস্ত পরিবারের সদস্যদের কমিউনিটি হলে রাখা হয়েছে। সেখানেই রাত কাটাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের যা সামগ্রী দরকার সবই দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁরা মেডিকেল হেল্পও পাচ্ছেন। তিনি বলেন, "এটা হল রিলিফ সেন্টার। মোট ৪৬ জন এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের স্বাস্থ্যের পুরো খেয়াল রাখছি আমরা। প্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধ, পানীয় জল, সবকিছুই দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই এখনও ট্রমায় আছেন। তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখারও চেষ্টা করছি।"
শনিবার রাতে প্রবল বর্ষণে একের পর এক জায়গায় ধস নেমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পাহাড় ও সমতলের। দার্জিলিংয়ের সুখিয়াপোখরি, জোরবাংলো, ঘুম, তাবাকোশি— সর্বত্রই বিপর্যয়। বিপর্যস্ত কার্শিয়াং ও কালিম্পংও। নদীগুলির প্রবল জলস্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় সমতলকেও।