এই নিয়োগের মাধ্যমে সরকার অনুমোদিত ও সরকারি পোষিত প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাশাপাশি জুনিয়র বেসিক স্কুলে সহকারী শিক্ষক নেওয়া হবে।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 18 November 2025 20:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (Primary Recruitment) যে ১৩ হাজারের বেশি শূন্যপদে (Vacancy) শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল, তার পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। অবশেষে শুরু হচ্ছে নিয়োগের আবেদন গ্রহণ। প্রায় দেড় মাসের জট কাটিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার অর্থাৎ ১৯ নভেম্বর থেকেই অনলাইনে আবেদন জানাতে পারবেন টেট-উত্তীর্ণ প্রার্থীরা (TET News)।
এই নিয়োগের মাধ্যমে সরকার অনুমোদিত ও সরকারি পোষিত প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাশাপাশি জুনিয়র বেসিক স্কুলে সহকারী শিক্ষক নেওয়া হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরে ইতিমধ্যেই নিয়োগপদ্ধতি শুরু হলেও প্রাথমিক স্তরটি এত দিন আটকে ছিল।
২০১৭ সালের পর আর কোনও নিয়োগ হয়নি প্রাথমিক পর্ষদের মাধ্যমে। প্রায় আট বছর পর আবার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় উৎসাহিত চাকরিপ্রার্থীরা। এ বার টেট নম্বরেও বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে—পুরনো বিধিতে যেখানে টেটের বরাদ্দ নম্বর ছিল মাত্র ৫, সেখানে নতুন খসড়ায় তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৫। তবে ডিএলএডের নম্বর কমে ১৫ থেকে নেমে ৫ হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, “প্রাথমিক স্তরে ১৩,৪২১টি শূন্যপদে নিয়োগের এই প্রক্রিয়া রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষা দফতরের অনুমোদনপ্রাপ্ত। চলতি বছরেই প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার স্বচ্ছ নিয়োগ সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী— এতে এসএসসি নিয়োগও অন্তর্ভুক্ত।”
এদিকে, বিজ্ঞপ্তি বিলম্বিত হওয়ায় গত সপ্তাহেই সল্টলেকে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের দফতরের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন ২০২২ সালের প্রাথমিক টেট-উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের দাবি ছিল, ২০২২ সালের পাশাপাশি ২০২৩ সালের টেট-উত্তীর্ণ প্রার্থীরাও যাতে আবেদন করতে পারেন। এমনকি ২০১৪ ও ২০১৭ সালের টেট পাশ করা প্রার্থীরাও এই নিয়োগে অংশ নেবেন বলে পর্ষদ সূত্রে জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, যদিও শূন্যপদের সংখ্যা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, এতদিন পরে নিয়োগ হচ্ছে। অথচ মাত্র ১৩,৪২১টি শূন্যপদে কেন শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনকারীদের অন্যতম 'মুখ' বিদেশ গাজি বলেছেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ১৩,৪২১টি ভ্যাকেন্সি-সহ পূর্ণাঙ্গ নোটিফিকেশন কেন? স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) বাড়াতে পারে শূন্য়পদ (যদিও সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা করেনি)। প্রাইমারির ক্ষেত্রে কেন বাড়ানো হচ্ছে শূন্যপদ? কেন এই দ্বিচারিতা? ২,৩১৫টি প্রাথমিক স্কুলশিক্ষক শূন্য!’