এরই মধ্যে সোমবার নতুন আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন কেষ্ট মণ্ডল নিজে।

অনুব্রত মণ্ডল।
শেষ আপডেট: 2 June 2025 22:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বোলপুর থানার আইসি (IC Bolpur) লিটন হালদারকে কদর্য ও নোংরা গালমন্দ করার ঘটনায় শনি ও রবিবার পরপর দু'দিন পুলিশি হাজিরা এড়িয়েছেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। নোংরা গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অনেকেই মনে করেছিলেন গ্রেফতারি এড়াতে সোমবার জেলা আদালত বা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন তিনি।
যদিও দিনের শেষে দেখা গেল, আদালতের পরিবর্তে ঘরবন্দিই রইলেন 'বীরভূমের বাঘ'। শারীরিক অসুস্থতার জন্য পুলিশের কাছে জমা দেওয়া মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়েও বিতর্ক ছড়িয়েছে। এদিকে স্রেফ ক্ষমা চেয়েই মাফ? প্রশ্ন তুলে অনুব্রতর গ্রেফতারের দাবিতে আগামী ৯ জুন বোলপুরে মিছিলের ডাক দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
পুলিশের একাংশও অনুব্রতর ঘটনায় ক্ষুব্ধ। এমনকী কেষ্টর পাশে দাঁড়াতে গিয়ে আইসিকে গালমন্দ করে দলের শাস্তির কোপে পড়েছেন বীরভূমের টিএমসিপির সভাপতি বিক্রমজিৎ সাউ। দল তাঁকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করেছে। তিহার জেল থেকে ঘুরে আসার পর আগের মতো জেলায় একচ্ছত্র আধিপত্যও নেই। ফলে বীরভূম জেলা তৃণমূলের অভ্যন্তরেও একাংশ কেষ্টর শাস্তির দাবিতে সরব। এ ব্যাপারে জেলা রাজনীতিতে কেষ্ট বিরোধী হিসেবে পরিচিত তৃণমূল নেতা কাজল শেখের কটাক্ষ, "শুধু ক্ষমা চেয়েই মাফ!" আরও একধাপ এগিয়ে দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় বলেন, "বিষয়টি দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির দেখা উচিত।"
অর্থাৎ সময় যত গড়াচ্ছে অনুব্রত ইস্যুতে দলের অভ্যন্তরেই ভিন্ন মত স্পষ্ট হচ্ছে। যদিও এ ব্যাপারে পদক্ষেপের বিষয়ে দলের তরফে এখনও কোনও বিবৃতি সামনে আসেনি।
প্রসঙ্গত গত বৃহস্পতিবার একটি অডিও ভাইরাল হয়। তাতে বোলপুর থানার আইসিকে অকথ্য গালিগালাজ এবং হুমকি দিতে শোনা যায় অনুব্রতকে। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে দলের চাপে নিজের ভুল স্বীকার করে নিয়েছিলেন কেষ্ট। যদিও জেলায় অনুব্রতর ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছাত্র নেতা বিক্রমজিৎ দাবি করেছিলেন, AI অডিও বানিয়ে ফাঁসানো হয়েছে অনুব্রতকে। সোমবার একই দাবি করেছেন অনুব্রতর আইনজীবীী বিপদতারণ ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, “আগামীদিনে ষড়যন্ত্র ফাঁস হবেই।”
ক্ষমা চাইলেও অনুব্রত এই প্রশ্নও তুলেছিলেন, কথোপকথনের অডিও বিজেপির কাছে কীভাবে গেল? তবে তাঁর অকথ্য ভাষার ব্যবহার নিয়ে দল যে যারপরনাই বিরক্ত, তা স্পষ্ট। বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। তার আগে এই ধরনের মন্তব্য করার অর্থ বিরোধীদের হাতে যেচে অস্ত্র তুলে দেওয়া। প্রকারন্তরে অনুব্রত সেটাই করেছেন বলে মনে করছেন দলের একাংশ নেতৃত্বও। দলের এক নেতার কথায়, "বার বার মত বদল করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছেন কেষ্ট নিজেই।"
এরই মধ্যে সোমবার নতুন আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন কেষ্ট মণ্ডল নিজে। টেলিফোনে সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁর দাবি, যেভাবে গলা ব্যথা, কাশি, জ্বরের উপসর্গ রয়েছে তাতে করোনা হলেও হতে পারে। আগামীকাল তিনি কোভিড টেস্ট করাবেন বলেও জানিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ কি ফের অনুব্রতকে তলব করবে নাকি গ্রেফতারির পথে হাঁটবে? 'ড্যামেজ' কন্ট্রোলে দল কি কড়া পদক্ষেপ করবে? বিরোধী শিবির তো বটেই দলের অন্দরেও এ নিয়ে বাড়ছে কৌতূহল।