স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে একের পর এক হিয়ারিংয়ে ডেকে অযথা হেনস্থা করা হচ্ছে। কী কারণে ডাকা হচ্ছে, কীসের ভিত্তিতে প্রশ্ন করা হচ্ছে, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিচ্ছে না প্রশাসন।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 16 January 2026 14:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর-এর হিয়ারিংয়ের (SIR hearing) নামে মানুষকে ডেকে হয়রানি করা হচ্ছে, এই অভিযোগে রাজ্যের নানা প্রান্তে যে বিক্ষোভ ছড়াচ্ছে, এ বার তার আঁচ পড়ল হাওড়া–কাটোয়া শাখাতেও (Howrah-Katwa)। শুক্রবার ভোর থেকে সমুদ্রগড় রেলস্টেশনে (Samudragarh Rail station) ট্রেনলাইন অবরোধে বসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর জেরে ডাউন লাইন-সহ উভয়পথেই ট্রেন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায় (Rail Blockade)। দীর্ঘক্ষণ লোকাল ট্রেন না চলায় চরম দুর্ভোগে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।
বিক্ষোভের জেরে সকাল থেকে সমুদ্রগড় স্টেশনে থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জিআরপি ও আরপিএফ। স্থানীয়দের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও আশ্বাসের পর ধীরে ধীরে কিছু ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তবে ততক্ষণে বহু যাত্রী গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে একের পর এক হিয়ারিংয়ে ডেকে অযথা হেনস্থা করা হচ্ছে। কী কারণে ডাকা হচ্ছে, কীসের ভিত্তিতে প্রশ্ন করা হচ্ছে, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিচ্ছে না প্রশাসন। সেই কারণেই বাধ্য হয়ে রেল অবরোধের পথে নামতে হয়েছে বলে জানান বিক্ষোভকারীরা।
এ দিকে, এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরাও। তাঁদের অভিযোগ, নিয়মিত ট্রেন বাতিল ও বিলম্বের পাশাপাশি প্রশাসনিক হেনস্থায় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভুগছেন। রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা এবং হয়রানির অভিযোগে কড়া পদক্ষেপের দাবিও উঠেছে।
প্রসঙ্গত, এসআইআরকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে রাজ্যের একাধিক জায়গায় অশান্তির ছবি সামনে এসেছে। বুধবার মালদহের ফারাক্কায় এসআইআর-এর নামে হয়রানির অভিযোগে বিডিও অফিসে ভাঙচুর চলে। অভিযোগ ওঠে, ওই ঘটনায় স্থানীয় এক তৃণমূল বিধায়ক নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায় ফের বিডিও অফিসে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। মাথা ফাটে থানার আইসির। পরে রাস্তায় গাছ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
দুটি ঘটনার ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। তবে এসআইআরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে অশান্তি ছড়াচ্ছে, তাতে উদ্বিগ্ন নির্বাচন-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত আধিকারিকদের একাংশ। যদিও কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।