Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
গরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: ২৬ দিনের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ! নিখোঁজ ১৮ জনের দেহাংশ তুলে দেওয়া হল পরিবারের হাতে

আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ২৬ দিন পর নিখোঁজ ২৭ জনের মধ্যে ১৮ জনের দেহাংশ তুলে দেওয়া হল পরিবারের হাতে।

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: ২৬ দিনের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ! নিখোঁজ ১৮ জনের দেহাংশ তুলে দেওয়া হল পরিবারের হাতে

ছবি: দ্য ওয়াল

অন্বেষা বিশ্বাস

শেষ আপডেট: 22 February 2026 08:19

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur fire) ২৬ দিন পর অবশেষে নিখোঁজদের খোঁজ মিলল, তবে জীবিত নয়— দেহাংশ হিসেবে। নিখোঁজ ২৭ জনের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ১৮ জনের দেহাংশ শনিবার তুলে দেওয়া হল তাঁদের পরিবারের হাতে। এই দেহাংশ নিতে এদিন কলকাতার কাঁটাপুকুর মর্গে পৌঁছন আত্মীয়রা। তবে এখনও পর্যন্ত ৯টি দেহাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার সকাল থেকেই শনাক্ত হওয়া ১৮ জনের পরিবারের সদস্যরা নরেন্দ্রপুর থানায় এসে জড়ো হন। সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর সেখান থেকে তাঁদের কাঁটাপুকুর মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় এক মাসের দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিয়জনের শেষ চিহ্নটুকু ফিরে পান তাঁরা। সকাল থেকেই থানার বাইরে অপেক্ষা করছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কেউ সকাল সাড়ে ৬টায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন, কেউ আবার ৭টার মধ্যেই পৌঁছে গিয়েছেন। কিন্তু কারও মুখে কথা নেই, কারও চোখে নীরব অশ্রু। শোক, হতাশা আর অপেক্ষার ভার যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল তাঁদের মুখে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি ভোররাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পর থানায় মোট ২৭ জনের নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনাক্ত হওয়া ১৮ জনের মধ্যে অধিকাংশই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দা। এছাড়া পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দারাও রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত তাঁদের পরিবারের হাতে মৃত্যুর শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই দেহাংশ হস্তান্তর করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা নিরঞ্জন মণ্ডল হারিয়েছেন তাঁর ছেলে ও ভাইকে। তাঁর ভাই গোবিন্দ মণ্ডলের বয়স ছিল ৩৯ বছর এবং ছেলে রামকৃষ্ণ মণ্ডল মাত্র ১৮ বছরের তরুণ। দু’জনেই আনন্দপুরের একটি গুদামে কাজ করতেন। কাঁটাপুকুর মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে নিরঞ্জন জানান, তাঁর ছেলের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, কিন্তু ভাইয়ের দেহাংশ এখনও শনাক্ত হয়নি। যদিও ভাইয়ের বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। আগামী ১৪ মার্চ ছেলে এবং ভাইয়ের শ্রাদ্ধশান্তির দিনও ঠিক করে ফেলেছেন পরিবার।

পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৯টি দেহাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে, কারণ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া এখনও চলছে।

এদিকে, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছিল। যে গুদামগুলিতে আগুন লেগেছিল, তার মধ্যে একটি ‘ওয়াও মোমো’ সংস্থারও ছিল। সংস্থার তরফে তাদের তিন কর্মীর পরিবারকে আলাদা করে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই সেই পরিবারগুলির হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক পৌঁছে গিয়েছে— কোথাও জেলাশাসকের মাধ্যমে, কোথাও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

তবে এই ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। অনেকেরই দাবি, মৃত্যু আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার আগেই কেন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। 


```