কয়লাকাণ্ড ও গরুপাচারের মতো স্পর্শকাতর তদন্তের সঙ্গে রাজীবের নাম জড়িয়ে সুকান্ত ‘আপত্তিকর’ ও ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ মন্তব্য করেছেন— এই মর্মেই সাত দিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রাক্তন পুলিশপ্রধান। অন্যথায় ফৌজদারি মামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

রাজীব কুমার ও সুকান্ত মজুমদার
শেষ আপডেট: 21 February 2026 19:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই বাংলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অলিন্দে নতুন সংঘাত। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumder) বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলে আইনি নোটিস পাঠালেন রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার (Rajeev Kumar)। কয়লাকাণ্ড ও গরুপাচারের মতো স্পর্শকাতর তদন্তের সঙ্গে রাজীবের নাম জড়িয়ে সুকান্ত ‘আপত্তিকর’ ও ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ মন্তব্য করেছেন— এই মর্মেই সাত দিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রাক্তন পুলিশপ্রধান। অন্যথায় ফৌজদারি মামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ (Paribartan Yatra)
বর্তমানে রাজ্যে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র কর্মসূচিতে জেলায় জেলায় সভা করছেন সুকান্ত মজুমদার। রাজীব কুমারের (Rajeev Kumar) আইনজীবীর দাবি, শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির সভা-সহ একাধিক জায়গায় তাঁর মক্কেলের চরিত্রহনন করার উদ্দেশ্যেই মিথ্যা ভাষণ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দু’পাতার ওই আইনি চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজীব কুমারের পেশাগত সম্মান ও সামাজিক খ্যাতি নষ্ট করতে সুকান্ত ইচ্ছাকৃতভাবে কয়লা ও গরুপাচারের প্রসঙ্গ টেনেছেন। সমাজমাধ্যমে সেই বক্তৃতার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় প্রাক্তন ডিজি মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
বালুরঘাট না ইমেল— বিতর্ক চিঠির প্রাপ্তি নিয়েও
জানা গিয়েছে, গত ৩০ জানুয়ারি রাজীব কুমারের আইনজীবী সুকান্তের বালুরঘাটের ঠিকানায় ওই চিঠি পাঠিয়েছিলেন। মন্ত্রীর দফতর সূত্রের দাবি, সংসদের অধিবেশন ও দলীয় কর্মসূচির কারণে তিনি বাইরে থাকায় চিঠিটি হাতে পেতে দেরি হয়েছে। তবে রাজীবের দাবি, সাত দিনের মধ্যে সমাজমাধ্যমের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে সুকান্তকে স্বীকার করতে হবে যে, তিনি যাচাই না করেই এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছিলেন।
‘মুখ্যমন্ত্রীর শাগরেদ’, পাল্টালেন সুকান্তও
আইনি নোটিসের কথা জানাজানি হতেই বিন্দুমাত্র নমনীয় না হয়ে উল্টে সুর চড়িয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। রাজীব কুমারের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সপাট জবাব, “ওঁর ভাবমূর্তি তো জগৎবিদিত। ফাইল চুরিকাণ্ডে উনি মুখ্যমন্ত্রীর শাগরেদ হয়েছেন, হাতে হাত মিলিয়েছেন। ফাইল লোপাটের অভিযোগে ওঁর বাড়িতে সিবিআই পর্যন্ত গিয়েছিল।” সুকান্তর হুঁশিয়ারি, রাজীবের বিরুদ্ধে আদালতের কী কী পর্যবেক্ষণ রয়েছে, তা প্রয়োজনে তিনি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করবেন। “উনি আইনি পথে লড়তে চেয়েছেন, আমরাও আইনি পথেই জবাব দেব,” স্পষ্ট বার্তা সুকান্তর।
সূত্র মারফত খবর, রাজীবের পাঠানো নোটিসের একটি কড়া জবাবও ইতিমধ্য়েই দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ভোটের মুখে এক প্রাক্তন পুলিশকর্তা ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর এই সম্মুখ সমরে রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।