বিজেপির (BJP) নাম না করে এদিন মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, গায়ের জোরে বাংলা দখল করা যায় না, আর বাঙালির খাদ্যাভ্যাস বা পোশাকের ওপর খবরদারিও সহ্য করা হবে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 21 February 2026 18:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশে ফেব্রুয়ারি মানেই বাঙালির আত্মপরিচয় আর অস্মিতার লড়াই। শনিবার দেশপ্রিয় পার্কে ভাষা শহিদ দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে সেই সুরেই সুর মেলালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে কেবল স্মৃতিচারণ নয়, তাঁর বক্তব্যের পরতে পরতে মিশে থাকল দিল্লির প্রতি তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ আর বাংলার সংস্কৃতি রক্ষার শপথ। বিজেপির (BJP) নাম না করে এদিন মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, গায়ের জোরে বাংলা দখল করা যায় না, আর বাঙালির খাদ্যাভ্যাস বা পোশাকের ওপর খবরদারিও সহ্য করা হবে না।
প্রতুল-স্মৃতি ও আক্ষেপ
এদিনের অনুষ্ঠানে গান আর কবিতার আবহে মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের (Pratul Mukhopadhyay Song) কথা। বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের শেষ মুহূর্তের কথা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নীরবে নিঃশব্দে চলে যেতে চেয়েছিলেন প্রতুলদা। চলে যাওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আমি দেখা করতে গেলে ডাক্তাররা বলেছিলেন উনি কথা বলার অবস্থায় নেই। তাও আমি ডাকলাম, বললাম— প্রতুলদা, আমি মমতা। উনি চোখ খুলে তাকালেন। মিরাকল! গান গাওয়ার কথা বলতেই বললেন, ‘আমি আর পারব না’।” এই স্মৃতিচারণের মাঝেই এদিন প্রবীণ আমলা বিবেক কুমারের গানের প্রশংসা করেন তিনি। এ দিনই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশিষ্টদের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করা হয়।
ভাষা-অধিকার ও ‘অনুপ্রবেশ’ তকমা
বাংলা ভাষার ওপর নেমে আসা ‘আক্রমণ’ নিয়ে এদিন রীতিমতো রণংদেহি মেজাজে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলা ভাষায় কথা বললেই কাউকে কাউকে অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের ভাষায় কথা বলা কি অপরাধ? কেন আমাদের ভাষা কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত হবে?” দিল্লির সাহিত্য আকাদেমিকে বিঁধে তাঁর তোপ, “গত বছর আমার একটি বই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল, কিন্তু আমার নাম থাকায় কাউকেই পুরস্কার দেওয়া হল না। এ বছরও আপনারা বাংলাকে কিছু দেননি। কেন? বাংলায় কি কেউ কিছু লেখে না?”
‘দিল্লির লাড্ডু’ ও আম-আমড়ার উপমা
কেন্দ্রীয় শাসক দলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আম গাছে কখনও আমড়া হয় না, আর পেয়ারা গাছে কখনও বাবলা কাঁটা হয় না। আগে বাংলাকে ভালবাসুন, তারপর বাংলা দখলের স্বপ্ন দেখবেন। আপনারা কি গায়ের জোরে বাংলা দখল করতে চান? কখনও বিদ্যাসাগর, কখনও রামমোহন, নেতাজি বা স্বামীজিকে অপমান করেন।” দিল্লির আধিপত্যকামী রাজনীতির দিকে আঙুল তুলে তাঁর কটাক্ষ, “আমরা দিল্লির লাড্ডুদের কাছে আত্মসমর্পণ করছি না। কী করবেন এসে? মাছ খাওয়া বন্ধ করবেন? মাংস খাওয়া বন্ধ করবেন? নাকি শাড়ি পরাও বন্ধ করে দেবেন?”
‘বাংলার জন্য ওরা বড্ড হ্যাংলা’
বক্তব্যের শেষে বিরোধীদের বিদ্রূপ করে মমতা বলেন, “ওদের দেখে মনে হয় বাংলার জন্য ওরা বড্ড বেশি হ্যাংলা। এটা হচ্ছে না, হবে না। গায়ের জোরে সবকিছু দখল করলেও মানুষের মন জয় করা যায় না।” বাংলার অস্মিতা এবং সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়ে তিনি আহ্বান জানান, “জোট বাঁধুন, তৈরি হন। জোর করে বাংলাকে দখল করা যাবে না।”