২০২১ সালে ক্ষমতায় এসে রাজ্য সরকার সংশোধনী বিল এনে বালি ও হাওড়াকে আবার পৃথক করে দেয়। সেই বিল ঘিরেই তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বালির অংশে খরচ হওয়া অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নবান্ন ও রাজভবনের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়, যার জেরে আইনি জটিলতায় আটকে যায় ভোট প্রক্রিয়া।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 6 February 2026 20:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ আট বছর ধরে ঝুলে থাকা হাওড়া পুরসভা নির্বাচনের (Howrah byElection) জট খুলতে বিধানসভার শেষ দিনে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রাজ্য সরকার।
সূত্রের খবর, শনিবার অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পেশ করা হবে ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ (Amendment Bill)। বিলটি পাশ হলে তা পাঠানো হবে রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য। রাজভবনের স্বাক্ষর মিললেই হাওড়া পুরসভায় ভোটের পথে আর কোনও আইনি বাধা থাকবে না, এমনটাই দাবি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের একাংশের।
শুক্রবার বিধানসভায় অধিবেশন শুরুর আগে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশোধনী বিলে হাওড়া পুরসভার বর্তমান ৫০টি ওয়ার্ড ভেঙে ৬৬টি ওয়ার্ড করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিলটি বিধানসভায় পাশ হয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের অনুমোদন পেলে তা আইনে পরিণত হবে। তার পর ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে হাওড়া পুরসভায় ভোটের প্রস্তুতি শুরু করা যাবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
হাওড়া পুর নিগমের নির্বাচন শেষ বার হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৫ সালে বালি পুরসভাকে হাওড়া পুরসভার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সে সময় বালি পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ড ভেঙে ১৬টি ওয়ার্ড তৈরি করে তা হাওড়া পুরসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে ২০২১ সালে ক্ষমতায় এসে রাজ্য সরকার সংশোধনী বিল এনে বালি ও হাওড়াকে আবার পৃথক করে দেয়। সেই বিল ঘিরেই তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বালির অংশে খরচ হওয়া অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নবান্ন ও রাজভবনের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়, যার জেরে আইনি জটিলতায় আটকে যায় ভোট প্রক্রিয়া।
এ বার সেই অচলাবস্থা কাটাতে নতুন করে আইন সংশোধনের পথে হাঁটছে রাজ্য। শাসক তৃণমূল পরিষদীয় দলের বক্তব্য, সংশোধনী বিল কার্যকর হলে হাওড়া পুরভোট নিয়ে আর কোনও আইনি প্রশ্ন থাকবে না। বিলের আলোচনায় অংশ নেবেন শাসক তৃণমূল এবং বিরোধী বিজেপির বিধায়কেরা। বিধানসভায় উপস্থিত না থাকলেও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন, পুরসভায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকা বিজেপি বিধায়কেরাই এই বিলে বক্তৃতা করবেন।
এ দিকে শনিবারই বিধানসভায় আরও একটি বিল আনা হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Murshidabad University) নাম বদলে ‘মুর্শিদাবাদ রাজা কৃষ্ণনাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব পেশ করা হবে। মুর্শিদাবাদ কৃষ্ণনাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়ার সময় রাজা কৃষ্ণনাথের নাম বাদ পড়ায় স্থানীয় মানুষের আবেগে আঘাত লেগেছিল। সেই আবেগের কথা মাথায় রেখে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছে রাজ্য সরকার।