আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ এবং মে মাসের মধ্যে বাকি ৭৫ শতাংশ রাজ্য সরকারকে মিটিয়ে দিতে হবে।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 6 February 2026 16:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) স্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও সরকারি কর্মচারীদের (Government employees) বকেয়া মহার্ঘভাতার ২৫ শতাংশ (outstanding DA) দ্রুত মেটানোর বদলে রাজ্য সরকার ফের রিভিউয়ের পথে হাঁটতে চাইছে, এই অভিযোগ তুলে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়ানোর ডাক দিল সংগ্রামী যৌথমঞ্চ (Sangrami Joutha Mancha) ।
সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের কড়া বার্তা, রাস্তায় না নামলে সরকার আরও টালবাহানা করবে। সেই কারণেই আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে রানি রাসমনি রোড পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।
ভাস্করবাবুর আহ্বান, রাজ্যের সব সরকারি কর্মচারীদের একজোট হয়ে পথে নামতে হবে নিজেদের ন্যায্য প্রাপ্য ছিনিয়ে নিতে। তাঁর কথায়, “সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার সত্ত্বেও যদি সরকার তা কার্যকর করতে গড়িমসি করে, তা হলে আন্দোলন ছাড়া আর কোনও রাস্তা নেই।”
একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি, সরকার যদি রিভিউ করার পথে যায়, তা হলে “সরকারকেই অচল করে দেওয়া হবে।”
নিজের আশঙ্কার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ভাস্কর ঘোষ বলেন, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। অথচ রায় ঘোষণার পর একদিন পেরিয়ে গেলেও সরকারের তরফে কোনও তৎপরতা চোখে পড়ছে না। এমনকি বৃহস্পতিবার পেশ হওয়া বাজেট অন অ্যাকাউন্টেও এ বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই। তাঁর মতে, এই নীরবতাই সন্দেহ বাড়াচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ডিএ মামলায় মাইলফলক রায় দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মহার্ঘভাতা সরকারি কর্মচারীদের ‘মৌলিক অধিকার’। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ এবং মে মাসের মধ্যে বাকি ৭৫ শতাংশ রাজ্য সরকারকে মিটিয়ে দিতে হবে।
তবে বাজেট শেষে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি এখনও রায়ের কপি হাতে পাননি। কপি হাতে পেলে তা খতিয়ে দেখে মন্তব্য করবেন বলেও জানান তিনি। সেই বক্তব্যের পরই বৃহস্পতিবার রায়ের কপি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে জমা দিতে নবান্নে হাজির হয়েছিলেন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সদস্যরা।
ভাস্কর ঘোষের অভিযোগ, নবান্নে তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। “আমরা যেহেতু মামলাকারী ছিলাম, তাই রায়ের কপি মুখ্যমন্ত্রীকে দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু নবান্নে ঢুকতে দেওয়া হল না। এর থেকেই বোঝা যায় সরকার কতটা চাপে রয়েছে,” বলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পুলিশের মাধ্যমেই রায়ের কপি জমা দেওয়া হয়।