বিএলও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম হল, সরকারি কর্মচারী বা আধা-সরকারি সংস্থার কর্মীদের মধ্য থেকেই নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনে নিয়োগ করা যাবে। কোনও ভাবেই রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতিত্ব চলবে না।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 8 September 2025 18:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহ জেলায় (Maldah) ৬১ জন বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) নিয়োগে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির তরফে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ভেঙে জেলা প্রশাসন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিএলও নিয়োগ করেছে (Irregularities in the Appointment BLOs)।
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল মালদহের জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়ার কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন।
বিএলও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম হল, সরকারি কর্মচারী বা আধা-সরকারি সংস্থার কর্মীদের মধ্য থেকেই নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনে নিয়োগ করা যাবে। কোনও ভাবেই রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতিত্ব চলবে না। কিন্তু বিজেপির অভিযোগ, মালদহে সেই নিয়ম মানা হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজ্যের শাসক দলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে প্রভাব খাটিয়ে বিএলও হিসেবে বসানো
হয়েছে। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রাজনৈতিক মহল বলছে, নির্বাচনের আগে বুথ লেভেল অফিসারের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের ওপরই নির্ভর করে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি কিংবা মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। সেক্ষেত্রে যদি নিয়োগে অনিয়ম ঘটে, তাহলে নিরপেক্ষতার জায়গা ক্ষুণ্ণ হতে বাধ্য। বিজেপি অভিযোগ করছে, “শাসক দল চাইছে ভোটার তালিকায় নিজেদের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে। তাই পছন্দসই মানুষদের বিএলও করে বসানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের একাংশ সূত্রের দাবি, সব নিয়োগই কমিশনের নির্দেশ মেনে করা হয়েছে। তবুও সিইও মনোজ আগরওয়ালের তলব করা রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে— কারা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের চাকরির ধরন কী, এবং কমিশনের নির্দেশ কতটা মানা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক আরও বাড়তে পারে। কারণ, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়েই যেখানে বিরোধীরা বারবার প্রশ্ন তুলছে, সেখানে বিএলও নিয়োগের মতো স্পর্শকাতর ইস্যু বিরাট আলোচনার জন্ম দিতে বাধ্য। এখন দেখার বিষয়, মালদহের ডিএম কী ব্যাখ্যা দেন এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে কমিশন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।