
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 April 2025 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াকফ ইস্যুতে অশান্তি (Waqf Bill Protest) শুরু হওয়ার পর মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলা থেকে প্রচুর মানুষ মালদহে চলে এসেছেন। প্রাণ বাঁচাতে তাঁদের কেউ কেউ খোলা মাঠে থাকতে শুরু করেছিলেন। পরে ঘরছাড়াদের জন্য আশ্রয় শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়। রাজ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) প্রতিনিধিরা এসে সেই আশ্রয়স্থলেই যান ঘরছাড়াদের সঙ্গে দেখা করতে। বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা, শোনেন অভাব-অভিযোগ। এদিকে মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা চলে যাওয়ার পরই পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ঘরছাড়ারা।
মালদহের বৈষ্ণবনগরের পারলালপুর হাইস্কুলে মুর্শিদাবাদের বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানেই পৌঁছেছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পর অন্য একটি কারণে ঘরছাড়ারা ক্ষোভ উগড়ে দেন পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, এদিন সকাল থেকে কাউকেই তাঁদের আশ্রয় শিবিরের ভিতরে ঢুকতে বা বেরোতে দেওয়া হয়নি। এমনকী আটকে দেওয়া হয় তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসা আত্মীয়স্বজনদেরও। এই নিয়েই উত্তেজনা সৃষ্টি হয় সেখানে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো রাজ্যে এসেছে জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরাও। তাঁদেরও ওই আশ্রয়স্থলে যাওয়ার কথা। এদিকে রাজ্যের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও সেখানে যেতে পারেন বলে খবর। পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, এঁরা সকলে আসবেন তাই বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্যই এই পদক্ষেপ। তাঁরা এও জানান, মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা চলে যাওয়ার পর অনেককে ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল ভিতরে।
প্রসঙ্গত, ওয়াকফের প্রতিবাদে গত শুক্রবার থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি। হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ ওঠে। সেই ভয়ে অনেকেই ঘর থেকে পালিয়ে যান এবং আশ্রয় নেন পাশের জেলা মালদহে। সেখানেই তাঁদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নেয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এদিকে বৃহস্পতিবার এমনই কয়েকজন ঘরছাড়াকে নিয়ে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। রাজ্যপাল নিপীড়িতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
তার আগের দিন অর্থাৎ বুধবার ভবানী ভবনেও গেছিলেন ঘরছাড়ারা। সঙ্গে ছিলেন সুকান্ত সহ অন্যান্য বিজেপি নেতারা।