বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টে যদি কোনও অনিয়মের ইঙ্গিত মেলে, তবে পরবর্তী ধাপে শুরু হবে ফরেনসিক অডিট।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 13 January 2026 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইডি (ED) সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) ধাক্কা খাওয়ার ঠিক পরের দিনই রোজভ্যালি কাণ্ডে (Rose Valley) বড়সড় মোড়। বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগে সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (SFIO)-কে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টে যদি কোনও অনিয়মের ইঙ্গিত মেলে, তবে পরবর্তী ধাপে শুরু হবে ফরেনসিক অডিট।
এই তদন্তের জন্য বিধি মেনে দ্রুত SFIO-কে অনুমোদন দিতে হবে কেন্দ্রীয় কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রককে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
এদিনও ডিভিশন বেঞ্চ তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে রোজভ্যালির আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে। আদালতের প্রশ্ন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দিলীপ শেঠ কমিটি টাকা ফেরানো বন্ধ করে দিয়েছে কেন? একের পর এক আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, টাকা ফেরাতে কোনও আইনি বাধা নেই। তবু ভুক্তভোগীরা টাকা পাচ্ছেন না. কারও কাছেই তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা নেই।
প্রসঙ্গত, রোজভ্যালির সম্পত্তি নিয়ে ফরেনসিক অডিটের নির্দেশ আটকে দিতে ইডি যে মামলা সুপ্রিম কোর্টে করেছিল, সোমবার তা খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। তার পরেই মঙ্গলবার হাইকোর্ট বিস্তারিত গাইডলাইন দিয়ে SFIO-কে তদন্তে নামার ছাড়পত্র দিল।
অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় সংস্থার পর রাজ্যের অর্থ দফতরও রোজভ্যালি এডিসি কমিটির বিরুদ্ধে ফরেনসিক অডিটে এগোতে অস্বীকার করেছে। কিছু দিন আগেই রাজ্য লিখিত ভাবে জানিয়েছে, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও দক্ষ জনবল নেই। রাজ্যের এই অবস্থানে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে আদালত। বেঞ্চের মন্তব্য, “বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক।”
এখন নজর ১২ ফেব্রুয়ারির দিকে। SFIO-এর রিপোর্টেই স্পষ্ট হবে, রোজভ্যালির হাজার হাজার আমানতকারীর টাকার ভবিষ্যৎ কোন পথে।