এদিন বহরমপুর শহরের ৩, ৭ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন অধীর। অভিযোগ, তিনি এলাকায় ঢুকতেই হাতে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরেন।

অধীররঞ্জন চৌধুরী
শেষ আপডেট: 5 April 2026 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবারের ছুটির মেজাজেও তপ্ত বহরমপুর (Baharampur)। নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে ফের এক বার বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কংগ্রেস প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। শুক্রবার রাত ও শনিবারের পর এ নিয়ে টানা তিন দিন অধীরের প্রচারে বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটল। রবিবারের এই ঘটনায় ফের এক বার মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) এই হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কী ঘটেছিল রবিবার সকালে?
এদিন বহরমপুর শহরের ৩, ৭ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন অধীর। অভিযোগ, তিনি এলাকায় ঢুকতেই হাতে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরেন। ক্রমাগত ‘গো ব্যাক’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি ক্রমে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা নেয়। তারা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে অধীরকে এলাকা থেকে বার করে আনে। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস প্রার্থীর হুঁশিয়ারি, ‘‘ভবিষ্যতে এই শহরকে ভয়মুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত করব। করব তো করবই।’’
তদন্তের মুখে আইসি, ব্যবস্থা ৪ কর্মীর বিরুদ্ধে
শনিবার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে অধীরের মিছিলে যে ধাক্কাধাক্কি ও বিশৃঙ্খলা হয়েছিল, তার রেশ ধরে কড়া পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার রাতের দিকে কমিশনের নির্দেশে বহরমপুরের আইসি শুভাশিস ঘোষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। ওই দিনের অশান্তির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জন তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে কমিশন।
রাজনৈতিক তরজা
বারবার প্রচারে বাধার মুখে পড়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল পরিকল্পিত ভাবে তাঁর প্রচারে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে শাসক শিবির। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, অধীর নিজেই বাইরে থেকে দুষ্কৃতী নিয়ে এসে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, বহরমপুরের রাজপথে দুই শিবিরের এই সংঘাত যে আরও তীব্র হচ্ছে, রবিবারের ঘটনা তারই প্রমাণ। পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও কেন বারবার এই অশান্তি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ।