তৃণমূলের জমানায় বাংলায় অপরাধীর সংখ্যা বেড়েছে, এনিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ইস্যু তুলে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা বলেন, "বাইরে থেকে ফৌজ এসে ঘুরলেও লাভ নেই। এখানে সন্ত্রাস বন্ধ করতে আরও কড়া দাওয়াইয়ের প্রয়োজন।"

অধীর চৌধুরী
শেষ আপডেট: 25 February 2026 19:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal)। তার আগে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে রাজ্যজুড়ে। কোথাও প্রকাশ্যে খুন, গুলি চালানোর মতো ঘটনা ঘটছে, কোথাও আবার উদ্ধার হয়েছে বোমা। এনিয়ে রাজ্য সরকার তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবং মুখ্যমন্ত্রীকে (West Bengal CM) বিঁধলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, 'তৃণমূলের (TMC) ইন্ধনেই অশান্ত হচ্ছে বাংলা।'
মঙ্গলবার ভাঙড়ের (Bhangar Bomb rescued) বানিয়ারা গ্রামে এক বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় মোট ২৮টি তাজা বোমা এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সদ্য তৈরি বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের।
অন্যদিকে, হাওড়ায় (Howrah Murder Case) প্রকাশ্যে এক প্রোমোটারকে গুলি করে খুন করার ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে সেই নৃশংস মুহূর্ত। এরপরই অভিযুক্তদের একজনের তৃণমূল যোগ রয়েছে বলে দাবি উঠছে। একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা গেছে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর (TMC MLA Goutam Chowdhuri) বাইকের পিছনে বসে আছেন অভিযুক্ত হারুন খান। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল বিধায়ক।
একের পর সন্ত্রাসের ঘটনা নিয়ে অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury) বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে খুন, বোমা উদ্ধারের মতো ঘটনা বাড়তে থাকবে। কোথাও তা প্রকাশ পাচ্ছে, কোথাও লুকিয়ে রয়েছে।"
বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদের (Former Congress MP) সাফ কথা, "মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দৌলতে খুন, বোমা-গুলি, দুর্নীতি, লুটের মতো ঘটনা এখনও রোজকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
ভাঙড়ের ঘটনায় অধীর চৌধুরী বলেন, "নতুন থানা উদ্বোধনের আগে বোমার মশলা, তাজা বোমা উদ্ধার হচ্ছে। এই বোমার মশলা দিয়েই থানা উদ্বোধনের প্রক্রিয়া শুরু হল।" তাঁর কটাক্ষ, "বাংলা এখন বারুদের স্তূপে দাঁড়িয়ে রয়েছে।"
তৃণমূলের জমানায় বাংলায় অপরাধীর সংখ্যা বেড়েছে, এনিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ইস্যু তুলে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা বলেন, "বাইরে থেকে ফৌজ এসে ঘুরলেও লাভ নেই। এখানে সন্ত্রাস বন্ধ করতে আরও কড়া দাওয়াইয়ের প্রয়োজন।"
প্রসঙ্গত, নির্বাচন ঘোষণার আগেই আগামী মাসের প্রথমেই বাংলায় আসছে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী (Central Force)। রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে পাঠানো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চিঠিতে বলা হয়েছিল, এলাকাভিত্তিক টহল, আস্থা গড়ে তোলা, ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্রের পাহারা, শক্ত ঘাঁটি পাহারা এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই মোতায়েন।
বাহিনী পাঠানোর সূচিও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ১ মার্চ প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি পৌঁছবে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (CRPF) ১১০, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (BSF) ৫৫, সিআইএসএফ ২১, তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর (ITBP) ২৭ এবং সশস্ত্র সীমা বলের (SSB) ২৭ কোম্পানি থাকবে।
ভোটকে (Election in Bengal) কেন্দ্র করে গত কয়েক বছরে বহু রক্তাক্ত হয়েছে বাংলা। এরপরই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিগত বেশ কয়েকটি ভোট হয়েছে তাদের নজরদারিতেই। তবে এতদিন ভোট ঘোষণার পর কিংবা ভোটের কিছুদিন আগে বাহিনী আসত বাংলায়। এবছর ভোট ঘোষণার আগেই ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে।