আদালত আরও জানায়, ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যে নথিপত্র জমা পড়েছে, সেগুলিই গ্রহণযোগ্য বলে ধরা হবে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সমস্ত নথি বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসারের হাতে তুলে দিতে হবে। এই দায়িত্ব পালন করবেন ইআরও (ERO) এবং এইআরও (AERO)-রা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 February 2026 14:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে চলা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড (Madhyamik Admit Card) পরিচয়পত্র হিসেবে জমা দেওয়া যাবে। তবে সেটি একক নথি হিসেবে নয় - মাধ্যমিক উত্তীর্ণের শংসাপত্রের (Madhyamik Certificate) সঙ্গে মিলিয়েই গ্রহণ করা হবে।
বুধবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, বয়স এবং অভিভাবকের নাম সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গুরুত্বপূর্ণ নথি হতে পারে। কারণ, পাশ সার্টিফিকেটে অনেক সময় জন্মতারিখ বা বাবার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে না। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই অ্যাডমিট কার্ড জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এছাড়া আদালত আরও জানায়, ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যে নথিপত্র জমা পড়েছে, সেগুলিই গ্রহণযোগ্য বলে ধরা হবে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সমস্ত নথি বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসারের হাতে তুলে দিতে হবে। এই দায়িত্ব পালন করবেন ইআরও (ERO) এবং এইআরও (AERO)-রা।
নির্বাচন কমিশনের (ECI) পক্ষে আইনজীবী ডিএস নাইডু অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে মানতে আপত্তি জানান। তাঁর বক্তব্য ছিল, আধারের মতো এটি স্বতন্ত্র পরিচয়পত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। এর জবাবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Justice Joymalya Bagchi) মন্তব্য করেন, আদালত কখনও একক নথি হিসেবে অ্যাডমিট কার্ডের কথা বলেনি। বরং পাশ সার্টিফিকেটের পরিপূরক হিসেবেই সেটি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলার বিচারকদের কাছে মাধ্যমিকের নথির প্রকৃতি স্পষ্ট বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরুতে জন্মের শংসাপত্রের বিকল্প হিসেবে মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য হতে পারে - এমন ইঙ্গিত মিলেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশন জানায়, অ্যাডমিট কার্ড প্রামাণ্য নথি নয়। ফলে বহু ভোটার সমস্যায় পড়েন, কারণ অনেকের কাছেই জন্মের শংসাপত্র নেই। নাগরিকত্ব বা বয়স প্রমাণে তাঁরা বিপাকে পড়ছিলেন।
এই প্রেক্ষাপটে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে কিছুটা স্বস্তি মিলল। এখন স্পষ্ট - দশম শ্রেণির পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড জন্মতারিখ ও পিতামাতার পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যের সহায়ক নথি হিসেবে জমা দেওয়া যাবে, তবে তার সঙ্গে অবশ্যই পাশের শংসাপত্র যুক্ত করতে হবে।
এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, আদালতের এই নির্দেশ তার অনেকটাই কাটাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।