আদালত অতিরিক্ত তালিকার অনুমতি দিলেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়নি। ফলে এখন প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশন (EC) আদতে কবে সেই তালিকা প্রকাশ করবে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের অভিযোগের নিষ্পত্তি বাকি।
.jpeg.webp)
মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 24 February 2026 20:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) আগে রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়া (West Bengal SIR) সংক্রান্ত মামলায় বড় নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final Voter List) ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই প্রকাশ করতে হবে। তবে প্রয়োজনে পরবর্তী পর্যায়ে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে নতুন নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রাখা যাবে বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। কিন্তু সেই অতিরিক্ত তালিকা কবে প্রকাশ পাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
আদালত অতিরিক্ত তালিকার অনুমতি দিলেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়নি। ফলে এখন প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশন (EC) আদতে কবে সেই তালিকা প্রকাশ করবে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের অভিযোগের নিষ্পত্তি বাকি। আর হাতে সময় মাত্র চারদিন। এত অল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক নাম যাচাই করা আদৌ সম্ভব কিনা, তা নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে সিইও দফতরের বক্তব্য।
বিপুল অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জুডিশিয়াল অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টেরও (Calcutta High Court)। একাধিক বৈঠকের পর কমিশন বলছে, যদি এক হাজারের বেশি জুডিশিয়াল অফিসার দায়িত্ব নেন, তবে হিসেব অনুযায়ী, প্রত্যেকে দিনে ২৫০টি করে নাম যাচাই করলে ২০ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে পারে।
তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করতেই হবে - এমন বাধ্যবাধকতা নেই। মনোনয়ন দাখিলের সময় পর্যন্ত যাদের নাম তালিকায় থাকবে, কেবল তাঁরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। যদিও কমিশন ও হাইকোর্ট-গঠিত কমিটি মার্চের মধ্যেই সব কাজ শেষ করার চেষ্টা করবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক অনুমান বলছে, আগামী কয়েক দিনে কিছু লক্ষ নাম যাচাই হলেও ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় না থাকার আশঙ্কা। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ তথ্যগত অসঙ্গতি এবং ৩২ লক্ষ ‘অচিহ্নিত’ ভোটারের নাম ঘিরে জট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই ৬০ লক্ষ অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে বিচারপতি কমিটির মাধ্যমে। যদিও পরবর্তী সময়ে এই সংখ্যাটিও বাড়তে পারে।
জেলা ভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদে ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, আর ঝাড়গ্রাম ও কালিম্পংয়ে কম। এই তারতম্যের কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের সংখ্যা নিয়ে। রাজ্য ইতিমধ্যে ২০২ জনের নাম পাঠিয়েছে, যেখানে প্রয়োজন ২৯৪ জন। কমিশনের দাবি, সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে পর্যাপ্ত আধিকারিক না থাকলে অভিযোগ নিষ্পত্তির গতি যে ধীর হবে, তা বলাই বাহুল্য। এরই মধ্যে মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, বাইরের রাজ্য থেকে জুডিশিয়াল অফিসার এনে কাজ করা যেতে পারে বাংলার এসআইআরের প্রক্রিয়ায়।