সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া দুই অভিযুক্তের নাম হারুন খান ও রোহিত বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির তরফে অভিযোগ ওঠে, হারুন শাসকদলের ঘনিষ্ঠ। দাবি করা হয়, তিনি হাওড়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব নেতা এবং বিধায়কের ছত্রছায়াতেই এলাকায় দাপট দেখাতেন।

গৌতম চৌধুরী
শেষ আপডেট: 25 February 2026 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ার (Howrah Shootout) বুকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি চালিয়ে খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা চরমে। অভিযুক্তদের একজনকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হতেই স্পষ্ট বার্তা দিলেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরী (TMC MLA Goutam Chowdhuri)। তাঁর দাবি, অভিযুক্তকে তিনি চেনেন না, বরং ওই ব্যক্তি একজন অপরাধী - তার স্থান জেলেই হওয়া উচিত।
বুধবার সকালে হাওড়ার (Howrah Shootout) গোলাবাড়ি থানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পিলখানার রাস্তায় এক যুবককে লক্ষ্য করে কাছ থেকে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মোটরবাইকে করে দু’জন হামলাকারী এসে কথাবার্তার ফাঁকেই আচমকা গুলি চালায়। খুব কাছ থেকে, প্রায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি করা হয় বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া দুই অভিযুক্তের নাম হারুন খান (Harun Khan) ও রোহিত বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির তরফে অভিযোগ ওঠে, হারুন শাসকদলের ঘনিষ্ঠ। দাবি করা হয়, তিনি হাওড়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব নেতা এবং বিধায়কের ছত্রছায়াতেই এলাকায় দাপট দেখাতেন।
অভিযোগের জবাবে গৌতম চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বহু মানুষ যোগ দেন, অনেক সময় বিভিন্ন কর্মীর বাইকেও উঠতে হয়। সেই সূত্রে কাউকে চেনেন বলেই দায় নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত যদি দোষী প্রমাণিত হয়, তবে আইনের পথেই তার বিচার হওয়া উচিত।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত যুবকের নাম সৌফিক খান। প্রাথমিকভাবে অনুমান, প্রমোটিং সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই এই খুন। স্থানীয়দের বক্তব্য, আর্থিক লেনদেন ও চাঁদা দাবি ঘিরে বিরোধ চলছিল। সেই টানাপোড়েনের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
আকাশ মেঘারিয়া, হাওড়ার পুলিশ কমিশনার, জানিয়েছেন সিসিটিভি বিশ্লেষণ করে দুই সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা বর্তমানে পলাতক, তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। পুরনো বিবাদই এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও তদন্তে নেমেছেন। সামনে আসা ফুটেজ খতিয়ে দেখে কারা জড়িত এবং কী কারণে এই খুন - তার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।