পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া পৌরনিগমের কাছে একটি ট্রেড সেন্টারের সিঁড়িঘরে সকাল থেকেই ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় বহুতলের ওপরের অংশে কোনও রকম সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই রাখা ছিল একাধিক লোহার রড ও নির্মাণসামগ্রী।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 February 2026 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ায় (Howrah Incident) নির্মাণকাজ ঘিরে চরম গাফিলতির অভিযোগ। মঙ্গলবার দুপুরে হাওড়া পৌরনিগম (Howrah Municipality) সংলগ্ন একটি বহুতল চত্বরে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল দু’জনের। ওপর থেকে মাথায় লোহার রডের পড়ার ফলে প্রাণ হারান শেখ ইরফান ও খোকন। আচমকা ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হাওড়া থানার পুলিশ এবং তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া পৌরনিগমের কাছে একটি ট্রেড সেন্টারের সিঁড়িঘরে সকাল থেকেই ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় বহুতলের ওপরের অংশে কোনও রকম সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই রাখা ছিল একাধিক লোহার রড ও নির্মাণসামগ্রী। ঢালাই চলাকালীন হঠাৎ একটি ভারী লোহার রড ওপর থেকে নীচে পড়ে যায়। ঠিক সেই সময় বহুতলের নীচে কয়েকজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে শেখ ইরফান ও খোকনের উপর সরাসরি আছড়ে পড়ে রডটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই ট্রেড সেন্টারে বহু ব্যবসায়ী তাঁদের পণ্যসামগ্রী মজুত রাখেন। মঙ্গলবার ছিল মঙ্গলাহাটের বাজার। টুপি ব্যবসায়ী শেখ ইরফান বাজারের সামগ্রী রাখতে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুটে খোকন। ভবনের নীচে দাঁড়িয়ে থাকার সময়ই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে হাওড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চললেও সেখানে কোনও সেফটি নেট বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ছিল না। পুলিশ বহুতলের ছাদে গিয়ে দেখতে পায়, চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে লোহার রড এবং নির্মাণসামগ্রী। কোনও রকম নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই কাজ চলছিল বলেই প্রাথমিকভাবে অনুমান তদন্তকারীদের।
মৃত শেখ ইরফানের ভাই শেখ ইসলাম ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমরাও ওখানে জিনিস রাখতে এসেছিলাম। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে ছিলাম। আমার দাদা আর খোকনের মাথায় উপর থেকে রডটা পড়ে। ওরা সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়ে। ওপর থেকে শ্রমিকরা তাকিয়ে দেখছিল, কিন্তু কেউ নীচে নেমে সাহায্য করেনি। প্রায় কুড়ি মিনিট পরে পুলিশ আসে। তার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।” তাঁর প্রশ্ন, কোনও নিরাপত্তা ছাড়া কীভাবে এমন কাজ চলতে পারে?
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটির তদন্ত করা হচ্ছে। নির্মাণকাজের অনুমতি, নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, এবং কার গাফিলতিতে এই দুর্ঘটনা - সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। নির্মাণ সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা তদন্তের পরেই ঠিক হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।