সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দিতে হবে। ফাঁকা ঘর তালাবন্ধ রেখে দীর্ঘক্ষণ না থাকার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
.jpeg.webp)
ছবি-এআই।
শেষ আপডেট: 19 November 2025 19:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিক্ষাবৃত্তির ছদ্মবেশ, কখনও বা খেলনা-বেলুন-বোতল পাল্টানোর অজুহাতে হাতসাফাই, সবই চোখের পলকে। সোনার গয়না থেকে নগদ টাকা, যা পায় তাই নিয়ে চম্পট। পুলিশ (Police) সূত্রে দাবি, এদের বেশিরভাগই মহিলা। কোলে শিশু, মুখে অসহায়ের সুর—সহানুভূতিই এদের ঢাল-তলোয়ার।
বিহার, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা—এই তিন রাজ্য থেকেই মূলত দল বেঁধে বাংলায় ঢোকে তারা। পুলিশি ভাষায় যাঁরা বিহার-হরিয়ানা থেকে আসে, তারা ‘বানজারা গ্যাং’ (Banjara Gang)। উত্তরপ্রদেশের দলকে বলা হয় ‘বদায়ুঁ গ্যাং’। শীতকালই যেন এদের ‘মরশুম’।
বীরভূম জেলায় ইতিমধ্যেই ঢুকে পড়েছে এই চক্রের সদস্যরা—এমনই দাবি জেলা পুলিশের। ভিক্ষার অছিলায় বাড়ি-বাড়ি, মন্দির-মসজিদে ঘুরে রেকি চলছে জোরকদমে। এরপর ফাঁক পেলেই লুট। কিছু ঘটনার অভিযোগও নথিবদ্ধ হয়েছে। তাই রাশ টানতে বীরভূম জেলার মুরারই-সহ একাধিক থানার উদ্যোগ—টোটোয় মাইক বেঁধে প্রচার, সতর্কতার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের বার্তা স্পষ্ট—বিহার, ইউপি বা হরিয়ানার কেউ এলাকায় এলে ঘর ভাড়া দেওয়ার আগে পরিচয়পত্র যাচাই করতেই হবে। সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দিতে হবে। ফাঁকা ঘর তালাবন্ধ রেখে দীর্ঘক্ষণ না থাকার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
স্টেশন চত্বর বা ফাঁকা জায়গায় অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে থাকছে অনেকেই। কেউ ভিক্ষা করছে, কেউ খেলনা-বেলুন বিক্রি করছে। পুরুষ সদস্যরা মাঠেঘাটে ইঁদুর বা পাখি ধরার নাম করে ঘোরাফেরা করছে। আবার উত্তরপ্রদেশের কিছু মানুষ অ্যাকোয়ারিয়াম ও শীতের পোশাক বিক্রির ব্যবসা শুরু করেছে। পুলিশের দাবি, এসবই আড়াল মাত্র—সুযোগ বুঝে চুরি করাই মূল উদ্দেশ্য।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়ছে। রাজগ্রামের সাবিনা বিবি, ফতেমা বিবিরা বলেন, “হিন্দিতে কথা বলছে অনেকে। কে আসল ব্যবসায়ী, কে ছদ্মবেশী—বোঝা যায় না। পুলিশের প্রচার শুনে আমরা সাবধান হয়েছি।”
পুলিশের বক্তব্য, বদায়ুঁ গ্যাং মূলত কম্বল বিক্রির ছদ্মবেশে লুট চালায়। আর বানজারা চক্রের নির্দিষ্ট কৌশল—গর্ভবতী মহিলা বা কোলে শিশু নিয়ে ভিক্ষার অছিলায় দোরে দোরে ঘোরা। হাতে-নাতে চুরির কাজটা সেরে নেয় কিশোর-কিশোরীরাই। নিয়ন্ত্রণ থাকে পুরুষ সদস্যদের হাতে।
পুলিশ জোর দিচ্ছে সচেতনতার ওপর—কারণ সতর্ক থাকলেই রোখা যায় এই মৌসুমি অপরাধচক্রকে।