লাভপুরের জনসভা থেকে বিজেপি-কে সরাসরি আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, রাম নবমীর নামে বহু জায়গায় দাঙ্গা লাগানো শুরু করে দিয়েছে বিজেপি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 March 2026 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ধীরে ধীরে বাড়ছে ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) উত্তাপ। সপ্তাহের শেষে রাজ্য-জুড়ে একসঙ্গে ভোট প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বীরভূমের লাভপুরের জনসভা থেকে বিজেপি-কে (BJP) সরাসরি আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি-র বিভেদের রাজনীতিকে নিশানা করে তিনি বলেন, "বিজেপি ধর্মের রাজনীতি করে, আর তৃণমূল কর্মের রাজনীতি করে"।
লাভপুরের মা ফুল্লরা মেলার মাঠে তৃণমূলের (Trinamool Congress) জনসভায় মঞ্চে ছিলেন অনুব্রত মন্ডল-সহ জেলার অন্যান্য নেতারা। এই সভা থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাম নবমীর নামে বহু জায়গায় দাঙ্গা লাগানো শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। তিনি মনে করিয়ে দেন, "প্রভু রামের জন্মভূমিতে বিজেপি হেরেছে। এরা ধর্মের রাজনীতি করে, তৃণমূল কর্মের রাজনীতি করে।"
অভিষেকের দাবি, "২৩ তারিখের ভোট প্রতিবাদের ভোট, প্রতিরোধের ভোট।" এরপরেই, সভা থেকে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, বিজেপি বহু রাজ্যে সরকার চালালেও যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার করেছেন তা কোথাও করে দেখাতে পারেনি বিজেপি। তিনি সভা থেকে সরাসরি জানিয়ে দেন, "মা-মাটি-মানুষের সরকার থাকলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হবে না।"
কয়েকদিন আগেই আসন্ন নির্বাচনের জন্যও তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশ করেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উল্লেখ করা সঙ্কল্পগুলির কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, মে মাসে সরকার গড়ার পরে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই সব বাড়িতে নলবাহিত পরিশ্রুত জলের ব্যবস্থা করবে তৃণমূল। এর পাশাপাশি, প্রতিটি ব্লক এবং টাউন এলকায় বয়স্কদের জন্যও দুয়ারে স্বাস্থ্য ক্যাম্প করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলা আবাস যোজনার জন্যও টাকা দেয় না কেন্দ্রীয় সরকার। এরপরেও, ৩২ লক্ষ বাড়ি তৈরি টাকা দিয়েছে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার টাকা না দিলেও যারা আবেদন করবেন, সবাই বার্ধক্য ভাতা পাবেন।
এখানেই না থেমে দৈন্যন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তাঁর অভিযোগ, "মোদী লুটছে আর দিদি দিচ্ছে।" বিজেপি নেতাদের প্রচারে মানুষের ঘরের কাজ করে দেওয়া নিয়ে তাঁর দাবী, "একমাস সুযোগ এদের দিয়ে ঘর পরিষ্কার করান। পয়সা খরচ না করে বিজেপি নেতাদের দিয়ে চুল-দাড়ি কাটিয়ে নিন।" এই নির্বাচনে, বিজেপি-কে ৫০-এর নীচে নামানোর লড়াই হবে বলে সভা থেকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় নেতৃত্বকে তিনি নির্দেশ দেন এলাকার বাকি থাকা কাজের তালিকা তৈরি করতে। তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচনের পরে তিনি নিজে আলোচনা করে সব করবেন।