বাংলার ভোট ঘোষণা করার পরই নির্বাচন কমিশন রাতারাতি পুলিশ-প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করেছে। এখনও সেই প্রক্রিয়া জারি রয়েছে। এরই মধ্যে শুক্রবার রামনবমীকে (Ram Navami 2026) কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদে ফের অশান্তির ঘটনা ঘটে।

অমিত শাহ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 28 March 2026 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬-এর বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) ফল নিয়ে চরম আত্মবিশ্বাসী অমিত শাহ (Amit Shah)। কলকাতায় এসে স্পষ্ট বলে গেলেন, ''যদি নয়, আমরাই সরকারে আসছি''। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের গত ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ৩৫ পাতার ‘চার্জশিট’ও (BJP Chargesheet) প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশ-প্রশাসনের রদবদল ইস্যুতে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhisekh Banerjee) কথা শোনাতে ছাড়লেন না অমিত শাহ। তাঁকে মনে করালেন ২১-এর বিধানসভা এবং ২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচন পরবর্তী হিংসার কথা (Post Poll Violence)।
বাংলার ভোট ঘোষণা করার পরই নির্বাচন কমিশন রাতারাতি পুলিশ-প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করেছে। এখনও সেই প্রক্রিয়া জারি রয়েছে। এরই মধ্যে শুক্রবার রামনবমীকে (Ram Navami 2026) কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদে ফের অশান্তির ঘটনা ঘটে। কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উঠলে অমিত শাহ প্রথমেই বলেন, প্রশাসনিক স্তরে রদবদলের কারণেই বিগত বছরের তুলনায় এবার কম হিংসা হয়েছে রামনবমীতে। কিন্তু এই ধরনের একটিও ঘটনা কাম্য নয়।
অমিত শাহ যে সময়ে সাংবাদিক বৈঠকে ব্যস্ত ঠিক সেই সময়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশি রদবদল নিয়ে পোস্ট করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক বদলের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। দোকান ভাঙচুর, ধর্মের নামে উত্তেজনা ছড়ানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করার মতো ঘটনা সামনে আসছে। অমিত শাহকে এই সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলেই তিনি কার্যত রেগে কাঁই হয়ে যান।
২১-এর বিধানসভা এবং ২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচন পরবর্তী হিংসার দায় কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নেবেন, প্রশ্ন করেন শাহ। বলেন, ''এই সময়ে কাদের ডিজিপি ছিল? বিজেপির কর্মকর্তাদের বেছে বেছে খুন করা হয়েছিল। এই ঘটনার কী ব্যাখ্যা দেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? রামনবমীতে সবথেকে কম হিংসা এবারেই হয়েছে কারণ পুলিশ প্রশাসনে রদবদল হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ আধিকারিক নিয়ে এসেছে।'' তাঁর এও অভিযোগ, এতকিছুর পরও উস্কানি দেওয়ার শত চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু লাভ হয়নি।
রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর পুলিশ-প্রশাসনের রদবদল নিয়ে শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্পষ্ট অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। অমিত শাহ অবশ্য এইসব অভিযোগকে গুরুত্বই দিতে চাননি। কমিশনের সিদ্ধান্তের সপক্ষে তাঁর যুক্তি, নির্বাচন এলেই সারা দেশের যে কোনও রাজ্যে পুলিশ সহ নানা আধিকারিকদের রদবদল হয়। এটাই নিয়ম। বাংলায় একটু বেশি চোখে পড়ে কারণ এখানে বেশিরভাগ আধিকারিকরাই তৃণমূলের ক্যাডার হয়ে গেছেন। সেই কারণে কমিশন তাঁদের বদল করেছে।
সব মিলিয়ে, অমিত শাহর বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলায় এবার ক্ষমতা দখল করতে মরিয়া বিজেপি। তাঁর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি ফের মনে করিয়ে দিল আগের বিধানসভা ভোটের সেই স্লোগান - ‘২০০ পার’। যদিও বাস্তবে সেই লক্ষ্য কতটা পূরণ হবে, তা নির্ভর করবে ভোটের ফলাফলের ওপরই।