মমতা বলেন, "আজ পর্যন্ত স্পষ্ট করে জানানো হয়নি কার নাম তালিকায় রয়েছে, আর কার নেই। যাদের নাম নেই, তাদের ট্রাইবুনালে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।"
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 28 March 2026 13:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খনি অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘ধস’ রুখতে ভোটের আগে (West Bengal Assembly Election 2026) বড় প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শনিবার রানিগঞ্জের ভোটপ্রচার থেকে ধসপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য আর্থিক ও আবাসন প্যাকেজ ঘোষণা করলেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে এলে প্রত্যেক পরিবারকে দেওয়া হবে ১০ লক্ষ টাকা এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে মিলবে দু’টি করে ফ্ল্যাট। এমনকি ঘর বদলানোর সমস্ত খরচও বহন করবে রাজ্য সরকার।
মানুষের জীবনই অগ্রাধিকার
এদিন জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই। আমরা চাই না কেউ বিপদের মধ্যে থাকুন।” তিনি জানান, ইতিমধ্যেই সরকারের তরফে ২,০০০টি ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও ৪,০০০ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। মমতার কথায়, “আমি কাউকে জোর করছি না, শুধু আবেদন করছি— নতুন করে ভাবুন। বড় ধস নামলে হাজার হাজার মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিন।”
ভোটার তালিকা নিয়ে তোপ
উন্নয়নমূলক ঘোষণার পাশাপাশি নির্বাচনী আবহে বিজেপি-কে (BJP) কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে সরব হয়ে তিনি বলেন, “এক একটি বুথে ৫০০ জনের নাম থাকলে ৪০০ জনের নামই বাদ দেওয়া হচ্ছে। এটা কি রসিকতা? একটা সীমা থাকে, কিন্তু বিজেপি সব সীমা পার করে যাচ্ছে।”
এখানেই শেষ নয়। মমতা বলেন, "আজ পর্যন্ত স্পষ্ট করে জানানো হয়নি কার নাম তালিকায় রয়েছে, আর কার নেই। যাদের নাম নেই, তাদের ট্রাইবুনালে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।"
তিনি অভিযোগ করেন, দেশে যেন একটাই নিয়ম চলছে, শুধু বিজেপিই সবকিছু ভোগ করবে, অন্য কেউ নয়। নোটবন্দির সময় সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছিল, এমনকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাও জমা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। আধার কার্ডও গ্রহণ করা হচ্ছে না, সবকিছুই করা হচ্ছে ‘এসআইআর’-এর নামে মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার জন্য।
এই পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই নীতিই শেষ পর্যন্ত বিজেপির জন্য ‘মৃত্যুবাণ’ হয়ে উঠবে। বাংলার ক্ষতি করতে গিয়ে তারা দেশের ক্ষমতাও হারাবে।
সম্প্রীতির বার্তা
নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঝেও এদিন মমতার ভাষণে ছিল ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা। রামনবমী থেকে ইদ, দুর্গাপুজো থেকে বড়দিন— সব উৎসবই বাংলার মানুষ একসঙ্গে পালন করে বলে মনে করিয়ে দেন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের উপমা টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একটা আঙুল দিয়ে কখনও মুঠো হয় না। সব ধর্ম, সব সম্প্রদায়কে নিয়ে চললেই সমাজ এগোয়।”