বাংলায় চলতি এসআইআর প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা নিয়ে যখন লাগাতার নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন পাল্টা প্রশ্ন তুললেন অমিত শাহও (Amit Shah in Kolkata )।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 28 March 2026 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় চলতি এসআইআর প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা নিয়ে যখন লাগাতার নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন পাল্টা প্রশ্ন তুললেন অমিত শাহও (Amit Shah in Kolkata )। শনিবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। সেই বৈঠকে তিনি নিজেই এসআইআর প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর কথায়, গোটা দেশে এসআইআর প্রক্রিয়া চলেছে। অবিজেপি রাজ্যেও হয়েছে। তামিলনাড়ু, কেরলে খুব সুষ্ঠুভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কাউকে আদালতে যেতে হয়নি। তাহলে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হল কেন?
ভোটের আগে এসআইআর প্রক্রিয়াকে কার্যত বাংলা ও বাঙালির প্রতি আঘাত বলেই দেখাতে চেয়েছে তৃণমূল। ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়ার ঘটনায় কমিশনেরল বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছে। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সওয়ালও করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর ভোটার তালিকা যাচাইয়ের জন্য জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়ে রেখেছিল তৃণমূল সরকার। জেলা শাসকরাও নির্ভীক ভাবে কাজ করতে পারেননি। সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্টকে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করতে হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সি খাতে যে ৬০ লক্ষ আবেদন ঝুলে ছিল, তার মধ্যে অধিকাংশ নামই সংখ্যালঘু। দেখা যাচ্ছে, জুডিশিয়ালদের অফিসারদের যাচাইয়ের পর সংখ্যালঘু নামই বাদ যাচ্ছে বেশি। এখনও পর্যন্ত ৩৭ লক্ষ নাম যাচাই করা গেছে।
এ ব্যাপারে অমিত শাহ এদিন বোঝাতে চান, নিচু তলার প্রশাসন ঠিক মতো কাজ করেনি বলেই এত সংখ্যায় লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি বেরিয়েছে।
তাঁর কথায়, আমি কথা দিচ্ছি, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে শুধু ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দেওয়া হবে তা নয়, বেছে বেছে প্রত্যেককে দেশ থেকেও বের করে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার প্রসঙ্গটিও তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি জানি অনুপ্রবেশ রোখার কথা বললেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলবেন এটা বিএসএফের কাজ। কিন্তু বাস্তব হল, সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমির দরকার। সেই জমি অধিগ্রহণের কাজ রাজ্য সরকারক করছে না। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এজন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র সচিব কলকাতায় এসে কথা বলেছেন। আমি চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু তার পরেও জমি অধিগ্রহণ হয়নি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে অধিগ্রহণের কাজ শেষ হবে।