অভিষেক বুধবার মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বলেন, “জাস্টিস ফর প্রদীপ কর”—এই দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ মিছিল করবে তৃণমূল।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুকান্ত মজুমদার।
শেষ আপডেট: 30 October 2025 15:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন ফের উত্তাল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) মন্তব্যকে নিশানা করে তীব্র কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। তাঁর অভিযোগ, “অভিষেক এসআইআরের (SIR) কিছুই জানেন না, তাই উল্টোপাল্টা বকছেন।”
বুধবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন, “অমিত শাহ, জ্ঞানেশ কুমারের বাবার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আছে? দেখাতে পারবেন?” — সেই মন্তব্যের পাল্টা জবাবে এদিন সুকান্ত বলেন, “রাজনীতিতে পড়াশোনা জানা লোকের আসা দরকার। উনি কি কখনও এসআইআর পড়েছেন? যাদের বয়স ৪৫-এর ওপরে, তাঁদের বাবার সার্টিফিকেট দেখাতে হয় না। উনি বিষয়টা না বুঝেই কথা বলছেন।”
সুকান্তর আরও দাবি, “এসআইআর চালু হলে ডায়মন্ড হারবার-সহ গোটা রাজ্যে ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ যাবে। তাই তৃণমূল আতঙ্কে। যারা ভারতের নাগরিক, বিশেষ করে হিন্দু উদ্বাস্তু, তাঁদের চিন্তার কিছু নেই—সিএএ ও ফরেনার্স অ্যাক্টে তাঁদের নাগরিকত্ব মিলবেই।”
এদিকে আগরপাড়ার প্রদীপ করের আত্মহত্যার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ, এসআইআরের আতঙ্কেই এই ঘটনা। অভিষেক বুধবার মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বলেন, “জাস্টিস ফর প্রদীপ কর”—এই দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ মিছিল করবে তৃণমূল।
এই প্রসঙ্গেও তোপ দাগলেন সুকান্ত। তাঁর বক্তব্য, “অভিষেক ‘জাস্টিস ফর আরজি কর’-এর (Justice for RG Kar) স্লোগান নকল করে আসলে অপমান করেছেন সেই আন্দোলনের মর্যাদাকে। ওনার বক্তব্যে ঔদ্ধত্যের ছাপ স্পষ্ট। শেষের দিকে সিপিএম নেতাদের মধ্যেই এই ঔদ্ধত্য ছিল। বাংলার মানুষ এই ঔদ্ধত্যের জবাব দেবে।”
প্রদীপ করের মৃত্যুকে ঘিরে সুকান্তর দাবি, “যার নাম ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে আছে, তিনি এসআইআর নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হবেন কেন? আসলে তৃণমূলের নেতারাই এমন উস্কানিমূলক কথা বলছেন যাতে মিথ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।”
একই সঙ্গে বিএলওদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিজেপি নেতা। বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, একজনেরও নাম বাদ গেলে ছাড়বেন না—এই হুঁশিয়ারির পর বিএলওরা আতঙ্কে। কমিশনের উচিত তাঁদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া।”