অভিষেকের এই মন্তব্য নিছক আবেগপ্রসূত নয়, বরং নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতেই এই ঘোষণা বলে স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি বাংলাকে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিকভাবে বঞ্চিত করে এসেছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 30 March 2026 16:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে ঝালদার জনসভা থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। সভার মঞ্চ থেকে তিনি হঠাৎ ঘোষণা করেন, প্রয়োজনে ২৯১টি আসনেই প্রার্থী (TMC Candidate List 2026) তুলে নেবে তাঁর দল। মুহূর্তের মধ্যে এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর জল্পনা। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন তিনি।
অভিষেকের এই মন্তব্য নিছক আবেগপ্রসূত নয়, বরং নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতেই এই ঘোষণা বলে স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি বাংলাকে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিকভাবে বঞ্চিত করে এসেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্পগুলিতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ না পাওয়া নিয়ে বারবার অভিযোগ তুলে এসেছে তৃণমূল। সেই প্রসঙ্গেই তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন স্থানীয় বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর উদ্দেশে।
সভা থেকে অভিষেক বলেন, ''যদি উনি (জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো) প্রমাণ করতে পারেন যে ৫ বছরে ১০ পয়সা গরিব মানুষের আবাস যোজনায় নরেন্দ্র মোদীর সরকার দিয়েছে, তাহলে ২৯১টি আসনেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেবে।'' ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কার্যত বিজেপির বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগকে আরও জোরালো করে তুলতে চান।
এখানেই থেমে থাকেননি তৃণমূল নেতা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, বিজেপি বাংলার মানুষের ভোট নিয়েও পরে সেই মানুষদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত করেছে। আবাস প্রকল্প থেকে শুরু করে ১০০ দিনের কাজ - বিভিন্ন ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এই পরিস্থিতিতে তিনি দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, এই ভোটই সেই বঞ্চনার জবাব দেওয়ার সুযোগ।
গত পাঁচ বছরে বিজেপি বাংলার জন্য কী করেছে, তার কোনও স্পষ্ট হিসেব নেই বলেও দাবি করেন অভিষেক। তাঁর কথায়, কেন্দ্রের সরকার একটিও নতুন পয়সা দেয়নি। বরং সাধারণ মানুষকে বারবার লাইনে দাঁড় করিয়ে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। নোটবন্দি, অতিমারির সময় টিকাকরণ বা অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।
সবশেষে ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, আরও একবার লাইনে দাঁড়ানোর সময় এসেছে - তবে এবার ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে জবাব দেওয়ার জন্য। ঝালদার সভা থেকে এই বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, আসন্ন নির্বাচনকে তৃণমূল বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে।
এই মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। শর্তসাপেক্ষে প্রার্থী প্রত্যাহারের ঘোষণা যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের ইস্যু আবারও সামনে এনে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এখন দেখার, এই চ্যালেঞ্জের জবাবে বিজেপি কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং নির্বাচনী প্রচারে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়।