রবিবাসরীয় সন্ধেয় বাংলার ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) আলোচনার এপিসেন্টারে ফের উঠে এলো ভবানীপুর (Bhabanipur Assembly)। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্বাচন কেন্দ্রে প্রচার ও কৌশল নির্ধারণের জন্য কর্মিসভার বৈঠক ডাকা হয় চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), ফিরহাদ হাকিম সহ দলের শীর্ষ নেতারা সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

শেষ আপডেট: 22 March 2026 20:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবাসরীয় সন্ধেয় বাংলার ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) আলোচনার এপিসেন্টারে ফের উঠে এলো ভবানীপুর (Bhabanipur Assembly)। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্বাচন কেন্দ্রে প্রচার ও কৌশল নির্ধারণের জন্য কর্মিসভার বৈঠক ডাকা হয় চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), ফিরহাদ হাকিম সহ দলের শীর্ষ নেতারা সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের দাবি, ওই কর্মিসভায় অভিষেক পষ্টাপষ্টিই বলেন, ভবানীপুরে আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। গত ভোটের জয়ের ব্যবধানের মার্জিন আরও বাড়াতে হবে।
ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এদিনের বৈঠকে অভিষেক অবশ্য বিজেপি নেতার মুখে আনেননি। শুধু বিজেপিকে হারানোর টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন।
অভিষেক কত ব্যবধানে জয়ের টার্গেট স্থির করে দিয়েছেন তা নিয়ে আলোচনার আগে দেখে নেওয়া যাক ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ভবানীপুরে ভোটাভুটির ছবিটা কেমন ছিল। একুশের বিধানসভা ভোটে ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিজেপির প্রার্থী ছিলেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁকে ২৮,৭১৯ ভোটে হারিয়েছিলেন শোভনদেব। পরে উপ নির্বাচনে ওই আসনে ৫৮,৮৩৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেক এদিন ওই ৫৮,৮৩৫ ভোটের হাব্যবধানকেই বেঞ্চমার্ক ধরেছেন। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবানীপুরে প্রত্যেক কর্মীকে অন্তত ৫টি করে ভোট বাড়ানোর লক্ষ্য নিতে হবে। ২৩১টি বুথে গত ভোটের লিডকে ছাপিয়ে যেতে হবে। শুধু জিতলে হবে না, ৬০ হাজারের বেশি ব্যবধানে জিততে হবে।
এদিনের কর্মিসভায় অভিষেক আর যা যা বলেছেন তা এইরকম—
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিষয়টি মানুষকে বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে, তা ভুলে গেলে চলবে না।
দলের ‘রিপোর্ট কার্ড’ সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।
দীর্ঘদিন জনসংযোগে না থাকা বিরোধীরা এখন ধর্মের রাজনীতি করছে—এই বিষয়টি মানুষকে বোঝাতে হবে।
রাজ্য সরকারের প্রকল্প ও কেন্দ্রের নীতির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে তুলে ধরতে হবে মানুষের কাছে।
রাজ্য সরকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, আর কেন্দ্রের সরকার মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে—এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।
লক্ষ্মীর ভান্ডার-এর মতো প্রকল্প অন্য কোনও বিজেপি-শাসিত রাজ্যে নেই—এটি তুলে ধরতে হবে।
আয়ুষ্মান ভারতের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে ‘স্বাস্থ্যসাথী’-র তুলনামূলক সুবিধা মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করতে হবে।
অন্তত তিনবার করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে, আত্মতুষ্টি থাকলে চলবে না।
তৃণমূল সরকার থাকলে লক্ষ্মীর ভান্ডার চালু থাকবে—এই আশ্বাস মানুষকে দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছে, ঘর করে দিয়েছে—এই বার্তাও পৌঁছে দিতে হবে।
‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর।
প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার তুলনা টেনে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মোদীর বেশভূষা, থাকা খাওয়া, চাল চলন বদলে গেছে। দিদি এখনও টালির চালের বাড়িতেই থাকেন।
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে আক্রমণ করতে হবে।
বুথ সভাপতিদের নির্দেশ—কাউন্সিলরের ফোনের অপেক্ষা না করে নিজে থেকে মানুষের কাছে যেতে হবে।
বিজেপি বাংলার ঐতিহ্য-সংস্কৃতি বোঝে না—এই অভিযোগ তুলে প্রচার চালাতে হবে।
বিজেপিকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত দল’ হিসেবে মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, নারায়ণ রানে, শুভেন্দু অধিকারী-সহ একাধিক নেতাকে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বলে সমালোচনা করতে হবে।
“এই বাংলা মাথা নত করবে না”—এই বার্তা দিয়ে কলকাতার মধ্যে ভবানীপুরকে প্রথম করার ডাক দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।