অভিষেকের সংযোজন, খুনের মামলায় অভিযুক্ত কাউকে ধরে শুধু ৫-৭ দিনের জন্য জেলে রাখা হবে, তারপর জামিন দিয়ে দেওয়া হবে, এমনটা হবে না। যদি জামিন হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হবে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 13 February 2026 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর রহস্যমৃত্যু ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুক্রবার নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)।
পরিবারের সঙ্গে কথা বলে অভিষেক দাবি করেন, মহারাষ্ট্র পুলিশের দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি শাসিত রাজ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শুধু ব্যবস্থা নিয়ে কোনও লাভ হয় না। কারণ, খুন, চুরি এমনকি ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েও অনেকে রাতারাতি জামিন পেয়ে যান। এই ঘটনায় যাতে তেমন কিছু না হয়, সে দিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মহারাষ্ট্র পুলিশ যদি মনে করে পারবে না তাহলে বাংলায় কেস ট্রান্সফার করে দিতে পারে। তাঁরা ৫০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে দেখিয়ে দেবেন। অভিষেকের সংযোজন, খুনের মামলায় অভিযুক্ত কাউকে ধরে শুধু ৫-৭ দিনের জন্য জেলে রাখা হবে, তারপর জামিন দিয়ে দেওয়া হবে, এমনটা হবে না। যদি জামিন হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হবে।
তাঁর হুঁশিয়ারি, দশ দিনের মধ্যে যদি অপরাধীরা ধরা না পড়ে, তা হলে তৃণমূলের বিধায়কদের একটি প্রতিনিধি দল নিহতের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মহারাষ্ট্রে যাবে।
এ প্রসঙ্গে জেলা বিজেপি নেতৃত্বকেও সুখেনের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তৃণমূল সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ বন্ধের প্রশ্নে দিল্লিতে সরব থাকা বিজেপি নেতাদের এই ঘটনায় নীরবতা চোখে পড়ার মতো।
প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুরে পুণের শিকরাপুর থানার অন্তর্গত কোরেগাঁও ভিমা এলাকা থেকে উদ্ধার হয় সুখেন মাহাতোর দেহ। তিনি পুরুলিয়ার বরাবাজার থানার তুমড়াশোলের বাসিন্দা। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে জীবিকার টানে ২০২১ সাল থেকে পুনের একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী সংস্থায় কাজ করছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেল তিনটে নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বেরোলেও কাজে যাননি। কোরেগাঁও এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় ঘোরাফেরা করার সময় দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বচসা বাঁধে। এরপর কী ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে মহারাষ্ট্র পুলিশ।
তদন্তের অগ্রগতি ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় পরিবার। তবে রাজনৈতিক তরজা ইতিমধ্যেই তুঙ্গে।