বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর অশান্তির আবহে ময়মনসিংহে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দীপু দাসকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় কেন্দ্র ইতিমধ্যেই একাধিক কড়া বিবৃতি দিয়ে ঢাকার কাছে বিচার দাবি করেছে এবং সংখ্যালঘুদের উপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং দীপু চন্দ্র দাস
শেষ আপডেট: 27 December 2025 21:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের (Bangladesh) সাম্প্রতিক অশান্ত পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বিজেপি দেশে রাজনৈতিক ফায়দা তুলছে বলে অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। তাঁর দাবি, প্রতিবেশী দেশের ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিভাজনের রাজনীতি করছে বিজেপি (BJP)।
দীপু দাসের হত্যাকাণ্ড (Dipu Chandra Das) নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিষেক বলেন, “বলা হচ্ছে তিনি নাকি ধর্মের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু তার প্রমাণ কোথায়? কারা এই কথা রটাল?” অভিষেকের অভিযোগ, বাংলাদেশে এই ঘটনা নিয়ে যেমন রাজনীতি হচ্ছে, তেমনই এ দেশে বিজেপিও সেই ভাষাতেই রাজনীতি করছে।
বিজেপির দ্বিচারিতা বোঝাতে অভিষেক দাবি করেন, “পুলওয়ামার (Pulwama) ছবি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভোট চেয়েছিলেন। আজও একইভাবে সংবেদনশীল বিষয়কে কাজে লাগানো হচ্ছে।” অভিষেকের মন্তব্য, “ওদিকে জামাত যা করছে, এখানে বিশেষ করে বাংলায় বিজেপিও কার্যত একই কাজ করে চলেছে।”
তবে বিদেশনীতি নিয়ে কেন্দ্রের পাশে থাকার প্রশ্নে কোনও দ্বিধা রাখেননি তৃণমূল সাংসদ (TMC MP)। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্র সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, তাতে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থন করবে। অভিষেক বলেন, “বিদেশনীতির প্রশ্নে আমরা বরাবরই কেন্দ্রের পাশে থেকেছি। পহেলগাম হামলা (Pahalgam Attack) ও তারপর অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময়ও তাই হয়েছিল।”
তিনি মনে করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) বিদেশে যে সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলেন, সেখানে তিনিও ছিলেন। তা সত্ত্বেও অভিষেকের প্রশ্ন - বাংলাদেশ নিয়ে কেন্দ্র সরকার কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেটা স্পষ্ট করে জানাচ্ছে না কেন? সিদ্ধান্ত নিলে তাঁরা পাশে থাকবেন - এটাই দলের অবস্থান।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর অশান্তির আবহে ময়মনসিংহে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দীপু দাসকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় কেন্দ্র ইতিমধ্যেই একাধিক কড়া বিবৃতি দিয়ে ঢাকার কাছে বিচার দাবি করেছে এবং সংখ্যালঘুদের উপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কোনও সরাসরি বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি।
এই নীরবতা নিয়েও সরব হন অভিষেক। তাঁর প্রশ্ন, “দীপু দাসের খুনের ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বা বিদেশমন্ত্রীর একটা বার্তা নেই। অথচ এঁরাই নিজেদের হিন্দুদের রক্ষাকর্তা বলেন। তা হলে এই নীরবতা কেন?” তিনি আরও বলেন, “মাত্র দু’মাস আগেই প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এসেছিলেন। আজ তিনি চুপ।”
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর কটাক্ষ, “শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের থেকে ইউনুসের সরকার ভাল। আপনিই তো সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। তা হলে এখন সেখানে হিন্দুদের উপর হামলার দায় কে নেবে?”