অভিষেকের দাবি, এই তালিকা সংক্রান্ত একাধিক স্ক্রিনশট তাঁদের কাছে রয়েছে। কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের নামের বানানে ভুল রয়েছে, অথবা বাবার বয়সের সঙ্গে সন্তানের বয়সের পার্থক্যে অসঙ্গতি রয়েছে। কিন্তু অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “একই দিনে কোন জাদুকাঠির ছোঁয়ায় খসড়া ভোটার তালিকা (Draft Voter List) আর অসঙ্গতির তালিকা তৈরি হয়ে গেল?”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 December 2025 21:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভূমিকা সন্দেহজনক বলে আবার দাবি করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা প্রেস রিলিজ ছাড়াই তথাকথিত ‘অসঙ্গতি’ সংক্রান্ত তালিকা হোয়াটসঅ্যাপে (Whatsapp) ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এসআইআরের (SIR) শুনানি পর্ব শুরু হয়েছে রাজ্যে। এই আবহে শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশনের কাজ প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “অসঙ্গতি বলে একটা তালিকা হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি নেই। হোয়াটসঅ্যাপে সকলের সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে। এটা নির্বাচন কমিশন নয়, এটা হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন (Whatsapp Commission)।”
অভিষেকের দাবি, এই তালিকা সংক্রান্ত একাধিক স্ক্রিনশট তাঁদের কাছে রয়েছে। কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের নামের বানানে ভুল রয়েছে, অথবা বাবার বয়সের সঙ্গে সন্তানের বয়সের পার্থক্যে অসঙ্গতি রয়েছে। কিন্তু অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “একই দিনে কোন জাদুকাঠির ছোঁয়ায় খসড়া ভোটার তালিকা (Draft Voter List) আর অসঙ্গতির তালিকা তৈরি হয়ে গেল?”
ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশন (ECI) যদি সত্যিই ভোটার তালিকা ‘পরিষ্কার’ করতে চায়, তাহলে কোন কোন নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বা চিহ্নিত করা হচ্ছে, সেই তথ্য প্রকাশ্যে আনছে না কেন?
অভিষেকের অভিযোগ, তথ্য গোপন রেখে এবং অনানুষ্ঠানিক পথে তালিকা ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। এতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
পরিসংখ্যান দিয়ে অভিষেক দাবি করেন - তামিলনাড়ুতে মোট জনসংখ্যা ৭ কোটি ৭৫ লক্ষ, আর নাম বাদ গেছে ৫৭ লক্ষ ৩০ হাজারের। ১২.৫৭ শতাংশ। গুজরাটে জনসংখ্যা ৭ কোটি ৩৯ লক্ষ। বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা ৭৩ লক্ষ ৭৩ হাজার। প্রায় ১০ শতাংশ। ছত্তীসগড়ের জনসংখ্যা ৩ কোটি ১২ লক্ষ, বাদ যাওয়া ভোটারের ২৭ লক্ষ ৩৪ হাজার। শতাংশে ৮.৭৬। পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) জনসংখ্যা ১০ কোটির কিছু বেশি আর নাম বাদ গেছে ৫৮ লক্ষ, শতাংশের বিচারে ৫ শতাংশ।
অভিষেক অন্য একাধিক রাজ্যের এসআইআরের (SIR In West Bengal) প্রসঙ্গ টেনে পরিসংখ্যান দিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ECI) উদ্দেশে প্রশ্ন করেন - তথ্য বলছে পশ্চিমবঙ্গেই সবথেকে কম নাম বাদ গেছে। তাহলে অন্যান্য রাজ্যে মাইক্রো অবজার্ভার (Micro Observer) না পাঠিয়ে শুধু বাংলাতেই কেন পাঠানো হল? বাংলার ক্ষেত্রে এক নিয়ম আর উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh), গুজরাটের (Gujarat) জন্য কি আলাদা নিয়ম, জানতে চান অভিষেক।
এই পরিপ্রেক্ষিতেই অভিষেক ঘোষণা করেন, অসঙ্গতি রয়েছে এমন ১ কোটি ৩৬ লক্ষ কারা? উত্তর চাইতে ৩১ ডিসেম্বর দিল্লি যাচ্ছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে দলের আরও কয়েক জন শীর্ষ নেতা থাকবেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) সঙ্গে দেখা করে এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।