ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগও তোলেন তিনি। অভিষেকের দাবি, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট ও তামিলনাড়ুতে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়লেও সেখানে কোনও বিশেষ দল পাঠানো হয়নি। “কেন শুধুমাত্র বাংলাকেই বেছে নিয়ে দল পাঠানো হচ্ছে?” - প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 December 2025 21:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর (SIR) নিয়ে নতুন করে বিজেপি সরকার (BJP Govt) এবং নির্বাচন কমিশনের (ECI) আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। এসআইআরের প্রক্রিয়া নিয়েই কমিশনের (ECI) নিরপেক্ষতা ও পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, গোটা প্রক্রিয়াটি কার্যত বিজেপির (BJP) নির্দেশেই পরিচালিত হচ্ছে।
শনিবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে অভিষেকের দাবি, “বিজেপির (BJP) স্বভাব মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া। আর নির্বাচন কমিশন (ECI) এসআইআরের যে শুনানি করছে, তার কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। ফলত ভুগতে হচ্ছে আমজনতাকে। আসলে বিজেপি যা বলছে, কমিশন সেটাই করছে।” তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
বিজেপির রাজনীতির চরিত্র নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান অভিষেক (Abhisekh Banerjee)। তাঁর ভাষায়, “বিজেপি বাংলা-বিরোধী। ওরা শুধু বোনাসের রাজনীতি করে, ধর্মের রাজনীতি করে, নাম বাদ দেওয়ার রাজনীতি করে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার রাজনীতি করে। ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও - এই ধ্বংসের রাজনীতিই ওদের একমাত্র লক্ষ্য।”
যদিও সূত্রের খবর, বয়স্ক এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ বা অক্ষম ভোটারদের জন্য আলাদা করে নির্দেশিকা জারি করতে চলছে কমিশন। এক্ষেত্রে কমিশনকে আগে থেকে জানানো হলে সেই ব্যক্তির শুনানি তার বাড়িতে গিয়েই করা হবে। যদিও এর আগেই কমিশন জানিয়ে দিয়েছিল যে ৮৫ উর্ধ্বে যে কোনও ব্যক্তি যদি শুনানির নোটিস পান সেক্ষেত্রে তিনি চাইলে তার বাড়িতে গিয়েই শুনানি করা হবে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগও তোলেন তিনি। অভিষেকের দাবি, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট ও তামিলনাড়ুতে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়লেও সেখানে কোনও বিশেষ দল পাঠানো হয়নি। “কেন শুধুমাত্র বাংলাকেই বেছে নিয়ে দল পাঠানো হচ্ছে?” - প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে অভিষেক বলেন, ইআরও-দের তথ্য ব্যবহার করে ফর্ম ৭ পূরণ না করেই ব্যাকএন্ড থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ইআরও-রা জানতেনই না যে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। “কে করছে, কেন করছে - তা কি মিসেস খন্নাই বলতে পারবেন? কেউ তো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগই পাচ্ছেন না,” দাবি অভিষেকের।
কে এই সীমা খান্না
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ইনি ডিজি, আইটি। কমিশনের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তাঁর কাজ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। নাম বাদ প্রসঙ্গে অভিষেক জানান, তাঁর চ্যাটের স্ক্রিনশট রয়েছে। তিনি মেনেও নিয়েছেন সফট্অ্যায়ারের ভুলের কারণে হয়েছে। তৃণমূল এই সব স্ক্রিনশট জমা দেবে সুপ্রিম কোর্টে।
এদিন অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের দায়িত্ব কার? তিনি বলেন, “বিএলও, ইআরও-রা বাড়ি বাড়ি ঘুরে যে কাজ করতে এক মাসেরও বেশি সময় নিলেন, সেটা কী ভাবে এক দিনে, এক ঘণ্টার মধ্যেই বার করে দেওয়া হল?” তাঁর দাবি, এই সংক্রান্ত একাধিক স্ক্রিনশট তাঁদের কাছে রয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই সব প্রমাণ সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জমা দেওয়া হবে। অভিষেক আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কাউকে আড়াল করছে না। যদি সত্যিই তালিকা থাকে, তা প্রকাশ করতে অসুবিধা কোথায়?” তাঁর মতে, তালিকা প্রকাশ না করে ভয় আর বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।