এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনা (PMAY-G), ইন্দিরা আবাস যোজনা (IAY) বা বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) প্রকল্পের আর্থিক সহায়তার অনুমোদনপত্র গ্রাহ্য নয়। চিঠি দিয়ে জানাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 16 February 2026 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনা (PMAY-G), ইন্দিরা আবাস যোজনা (IAY) বা বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) প্রকল্পের আর্থিক সহায়তার অনুমোদনপত্র গ্রাহ্য নয়। শুনানি শেষের দু'দিন পর চিঠি দিয়ে জানাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু যে বিষয়ে ২১ জানুয়ারি জানতে চাওয়া হয়েছিল, তার উত্তর এল প্রায় এক মাস পরে। ফলে সময় নির্বাচন নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। শুনানি মিটে যাওয়ার পর এই ব্যাখ্যার তাৎপর্য কী— তা নিয়েও ধন্দে অনেক আবেদনকারী। এক তৃণমূল নেতার কথায়, বিজেপি-কমিশন এক হয়ে কাজ করেছে এটাই তার প্রমাণ। এত দিনে কমিশনের ঘুম ভেঙেছে (SIR News)।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে (CEO West Bengal) পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ২১ জানুয়ারি ২০২৬-এ পাঠানো একটি রেফারেন্সের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করা হয়েছে। সেখানে জানতে চাওয়া হয়েছিল, উল্লিখিত আবাস প্রকল্পগুলির আর্থিক অনুমোদনপত্র এসআইআর প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য কি না।
চিঠিতে ৯ ফেব্রুয়ারি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আদালত জানিয়েছে, যাঁদের নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁরা এসআইআর নোটিসে উল্লিখিত নথি বা আদালতের ১৯ জানুয়ারির নির্দেশে উল্লিখিত নথির উপর নির্ভর করতে পারবেন, এবং আপত্তি নিষ্পত্তির সময় ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা (ERO) সেই নথিগুলি বিবেচনা করবেন।
এ প্রসঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, ২৭ অক্টোবর ২০২৫-এ জারি হওয়া এসআইআর নির্দেশিকায় “সরকারি জমি বা বাড়ি বরাদ্দের শংসাপত্র” একটি নির্দেশক নথি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু PMAY-G, IAY বা বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার অনুমোদনপত্র সেই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়। এগুলি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বা এসআইআর নির্দেশিকায় নির্দিষ্ট নথির তালিকায় পড়ে না।
চিঠির শেষে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সমস্ত আধিকারিকের নজরে এনে কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।
এখানেই তৈরি হয়েছে বিতর্কের জায়গা। ২১ জানুয়ারি যখন এই দুই প্রকল্পের নথি গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তখনই কি কমিশন স্পষ্ট অবস্থান জানাতে পারত না? প্রায় এক মাস ধরে অনিশ্চয়তা কেন চলল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
কারণ, ১৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত বহু আবেদনকারী প্রধানমন্ত্রী আবাস, ইন্দিরা আবাস কিংবা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তা হিসেবে পাওয়া কার্ড বা অনুমোদনপত্র জমা দিয়েছেন। এখন তাঁদের ভবিষ্যৎ কী? সেই নথিগুলি কি সরাসরি অগ্রাহ্য হবে? যদি তা-ই হয়, তবে শুনানির সময়েই কেন তা জানানো হল না?
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সময়নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা কমিশন বরাবরই বলে থাকে। কিন্তু শুনানি শেষের পর এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যাখ্যা আসায় বিভ্রান্তি বেড়েছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।