ডিজিটাল অ্যারেস্ট আসলে কী?

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 24 May 2025 15:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) এর খপ্পরে পড়ে নিজের সঞ্চয়ের ৩০ লক্ষ টাকা খোয়ালেন ৭৬ বছরের বৃদ্ধা (old woman)। হাওড়ার (Howrah) বেলুড় থানার ঘুসুড়ির ঘটনা।
১১ মার্চের ঘটনা। অনেক পরে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে সাইবার ক্রাইম পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই বৃদ্ধা। তদন্ত নেমে উত্তর প্রদেশ থেকে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে হাওড়ায় নিয়ে এসে আদালতে তোলা হলে বিচারক চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশকে বৃদ্ধা জানিয়েছেন. গত ১১ মার্চ তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। অপরপ্রান্ত থেকে দাবি করা হয়, মুম্বইয়ের কোলাবা পুলিশ স্টেশন থেকে ফোন করেছেন। মানি লন্ডারিং ও অন্য কেসে তাঁকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করা হয়েছে বলে দুষ্কৃতীরা দাবি করে। ভয় পেয়ে তিনি নিজের সঞ্চয়ের ৩০ লক্ষ টাকা দুষ্কৃতীদের অ্যাকাউন্টে পাঠাতেই ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে উঠে বৃদ্ধা বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এরপরই যোগাযোগ করেন হাওড়া সিটি পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের সঙ্গে। তদন্তে নেমে সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বরের লোকেশন ট্র্যাক করে উত্তরপ্রদেশ থেকে এক দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করে পুলিশ।
ডিজিটাল অ্যারেস্ট আসলে কী?
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সরকারি সিবিআই, নারকোটিক্স শাখা, আরবিআই, ট্রাই, শুল্ক বা আয়কর আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফোন করেন প্রতারকেরা।
ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর কোনও অভিযোগের কথা বলা হয়। কখনও আবার তাঁর সন্তানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, অভিযোগের পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। কখনও আবার ভুয়ো কান্না শোনানো হয় পরিজনের। এক বার ফাঁদে পা দিলেই ‘ডিজিটাল গ্রেফতার’ করা হয় সেই ব্যক্তিকে।
ফোন করার সময় যে তদন্ত সংস্থার নাম নিয়ে ফোন করা হয়েছে, সেই সংস্থার ইউনিফর্ম পরে থাকেন প্রতারকেরা। সংস্থার দফতরের আদলে ঘরও সাজানো হয়। তাই ভিডিও কলে সেসব দেখে যথেষ্ট বিশ্বাস করে ফেলেন 'টার্গেট' হওয়া ব্যক্তি।
এর পরে 'মামলা' থেকে মুক্তি দেওয়ার শর্তে মোটা টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে কঠিন শাস্তি পেতে হবে বলেও ভয় দেখানো হয়। এ ভাবেই সাধারণ মানুষদের থেকে কয়েক লক্ষ পর্যন্ত হাতিয়ে নেয় প্রতারকেরা। এই ফাঁদে পা দিয়ে ইতিমধ্যে বহু মানুষ প্রতারিত হয়েছেন।
কেন্দ্রীয় সতর্কতা
এ ব্যাপারে গত বছর ভারতীয় সাইবার-নিরাপত্তা সংস্থা কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম অফ ইন্ডিয়া (CERT-In) দেশের অনলাইন প্রতারণা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে একডজন নতুন ধরনের প্রতারণার কথা বলে হয়েছে, যার মধ্যে ডিজিটাল অ্যারেস্ট অন্যতম।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠা থেকে এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন। সাবধান করে বলেছেন, ‘ডিজিটাল গ্রেফতারি’ বলে কিছু হয় না। দেশের কোনও আইনে এই ধরনের গ্রেফতারির কথা বলা নেই। তিনি সচেতনতা প্রসঙ্গে আরও বলেছেন, এ ধরনের ফোন পেলে ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে এবং প্রয়োজনে সাময়িক ভাবে অ্যাকাউন্টগুলি ব্লক করার নির্দেশ দিতে হবে। পাশাপাশি, পুরো ঘটনার স্ক্রিনশট বা কল রেকর্ডিংয়ের মতো তথ্যও প্রমাণস্বরূপ সংগ্রহ করে রাখা যেতে পারে।