মালদহে ভোটার তালিকা বিতর্কে উত্তাল কালিয়াচক! বিডিও অফিস ঘেরাও করে আটকে ৭ বিচারবিভাগীয় আধিকারিক।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 2 April 2026 00:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহের কালিয়াচকে (Malda, Kaliachak) ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল এলাকায় (Voter List Controversy)। বুধবার সকাল থেকেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ শুরু হয়, যার জেরে কালিয়াচক–২ ব্লক অফিসে আটকে পড়েন সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা আধিকারিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল পুলিশ বাহিনী, যদিও এখনও পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সরানো যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগেই ক্ষোভ জমতে শুরু করে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে ভোট প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্রাইবুনালে আবেদন করার পথ খোলা থাকলেও, এলাকাবাসীদের বক্তব্য, প্রথমে নাম সংশোধনের সমাধান করতে হবে, তারপর ভোট।
বুধবার সকাল থেকেই মালদহের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভের চিত্র সামনে আসে। মোথাবাড়ি এবং সুজাপুর এলাকায় সকাল থেকে অবরোধ শুরু হয়। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রতিবাদ চলতে থাকে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ অবরোধ শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল।
এরই মধ্যে কালিয়াচক–২ ব্লক অফিসের বাইরেও বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন এবং ঘেরাও কর্মসূচি শুরু করেন। সেই সময় ব্লক অফিসে এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভের জেরে তাঁরাও ব্লক অফিসের ভিতরে আটকে পড়েন। তারপরে তাঁরা যখন ছাড়া পান, ৭ কিমি রাস্তা আসতে না আসতেই আবার তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলের প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রচুর মানুষের ভিড়, মাইকিং করে প্রতিবাদ এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা দফায় দফায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বললেও এখনও পর্যন্ত অবরোধ তোলা যায়নি বলে খবর। মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে গোটা ঘটনাকে ঘিরে এই মুহূর্তে বিশদে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
এনিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, 'এই গোটা ঘটনাটা নিয়েই বেশ চিন্তিত। এতক্ষণ ধরে জাতীয় সরক অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে। ৭ জন জুরিশিয়াল অফিসারকে আটকে রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল মানুষকে উস্কানিমূলক কথা বলেছে বলেই আজ সেটার ফল আমরা দেখতে পাচ্ছি।'
এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানালেন, মালদহতে যে ঘটনা ঘটছে, তার সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনের। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনও চেষ্টাকেই সমর্থন করে না। বলেন, 'আমরা আইনের মধ্যে থেকে, কোনও বিশৃঙ্খলা তৈরি না করে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিজেপির কাছে এটা একটা ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। আমি তো শুনেছি সেখানে সাংবাদিকদের গায়েও হাত তোলা হয়েছে। তাঁদের বলা হয়েছে, তৃণমূলের দালাল। এর থেকেই তো স্পষ্ট যে, এসব তৃণমূল কংগ্রেস করছে না। আর যাঁরা যাঁরা বলছেন, রাজ্যের ব্যর্থতা এটা। পুলিশ কী করছে, এই ওই...আমি তো বলব এসব প্রশ্ন নির্বাচন কমিশনকে গিয়ে করুন। সমস্ত পুলিশের রদবদল তো তারাই করেছে। তাই প্রশ্নটা নির্বাচন কমিশনকে করাই ভাল।'