এটাও পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, একবার নাম উঠলে সেই নামের বিরুদ্ধে যদি কেউ কোনও অভিযোগ জানায় তাহলে সেই অভিযোগের নিষ্পত্তির সময় দিতে হবে। ফর্ম-৬ এর ক্ষেত্রে দশ দিন সময় দিতে হয় খতিয়ে দেখার জন্য।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 April 2026 20:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণ ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় বা শেষ দফা ২৯ এপ্রিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সব ভোটার ভোট দিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে এখনও নিশ্চয়তা নেই। কারণ এসআইআর (West Bengal SIR)। এখনও পর্যন্ত বহু ভোটারের নাম বিবেচনাধীন এবং অতিরিক্ত ভোটার তালিকায় (Voter List) ওঠেনি। আশঙ্কা, তাঁদের মধ্যে অনেকেই হয়তো শেষমেশ ভোট দিতে পারবেন না।
সবাই ভোট দিতে পারবেন না
সিইও দফতরের তরফে বুধবারই জানানো হয়েছে, গত ২৭ মার্চ পর্যন্ত যে ফর্ম-৬ (Form 6) জমা পড়েছে শুধুমাত্র সেগুলি খতিয়ে দেখার পর তালিকায় নাম উঠতে পারে। তার পর যে সব ফর্ম-৬ জমা পড়ছে সেগুলি ভোটার তালিকায় তোলা সম্ভব হবে না।
এটাও পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, একবার নাম উঠলে সেই নামের বিরুদ্ধে যদি কেউ কোনও অভিযোগ জানায় তাহলে সেই অভিযোগের নিষ্পত্তির সময় দিতে হবে। ফর্ম-৬ এর ক্ষেত্রে দশ দিন সময় দিতে হয় খতিয়ে দেখার জন্য।
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ৬ তারিখের পর আর নতুন করে কোনও ভোটার তালিকা তৈরি করা হবে না। ফলে ৬ তারিখ পর্যন্ত যে সব নাম তালিকায় উঠবে তারাই শুধু ভোট দিতে পারবেন।
৭ তারিখের মধ্যেই নিষ্পত্তি
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে বুধবারই কমিশন জানিয়েছে, ৬ এপ্রিল রাত ১২টার মধ্যেই সব নিষ্পত্তির সমাধান করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ ৭ তারিখের মধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৪৭ থেকে ৪৮ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার থেকে ট্রাইব্যুনালের কাজও শুরু হয়ে যাবে। কমিশন বলছে, জোকায় ট্রাইব্যুনালের জন্য আপাতত ৮ সপ্তাহের জায়গা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ওখানে পরবর্তী সময়ে ট্রাইব্যুনালের কাজ চলবে নাকি অন্য জায়গায় হবে, সেটা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে
ফর্ম-৬ নিয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও তুলেছে কমিশন। তাঁদের স্পষ্ট কথা, কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃত তথ্য বিকৃত করে ছড়ানোর চেষ্টা করছে। যদি কারও নাম বাদ যায় তাহলে সেটার মধ্যে ধর্ম বা জাতি খোঁজার কোনও প্রয়োজন নেই।
তৃণমূলের অভিযোগ প্রসঙ্গে কমিশনের বক্তব্য, ভবানীপুরের একজন ভোটার ছিলেন (নাম না করে প্রশান্ত কিশোর) যাঁর আবার বিহারের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। এসব ক্ষেত্রে যতক্ষণ না সরকারিভাবে কেউ অভিযোগ জমা দিচ্ছে ততক্ষণ কমিশন কী করবে? শুধু মুখে বললে হবে না, সব সঠিক তথ্য দিয়ে অভিযোগ জানাতে হবে।
সিইও অফিসে গন্ডগোল
কমিশনের জানাচ্ছে, বিষয়টি কলকাতা পুলিশ দেখছে। এটা তাঁদের বিষয় নয়, আইনশৃঙ্খলার বিষয়। আর ভোটের সময়ে নিরাপত্তার ব্যাপার আরও জোরদার করতে যত বাহিনী প্রয়োজন হবে তত বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রয়োজনে ২৪০০ কোম্পানির পরেও আরও প্রায় ১২৫ কোম্পানি বাহিনী আনা হতে পারে। বর্তমানে রাজ্যে ৮০,৭১৯ টি বুথ রয়েছে, সেই সংখ্যা আরও ৪,৬৬০ টি বুথ বাড়তে পারে। ফলে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন হতে পারে।