পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু পূর্ব বর্ধমানে। তারপর বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর। সর্পাঘাত ও মৃত্যুর নিরিখে লাল তালিকাভুক্ত হয়েছে ৮ জেলা— বাঁকুড়া, বীরভূম, হুগলি, মালদহ, নদিয়া, দুই মেদিনীপুর ও পূর্ব বর্ধমান।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 19 August 2025 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোবলের কোপে ( Snake Bites) বাংলা! ৬ মাসে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৩৬ হাজার, মৃত্যু ১২৯ জনের! খোদ সরকারি রিপোর্টেই এই পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ,সময়ের মধ্যে ঘটেছে এই ঘটনাগুলি। এর মধ্যে এনভেনোমেশন বা বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে ৭ হাজার ৫০৪ জনের ক্ষেত্রে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু পূর্ব বর্ধমানে। তারপর বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর। সর্পাঘাত ও মৃত্যুর নিরিখে লাল তালিকাভুক্ত হয়েছে ৮ জেলা— বাঁকুড়া, বীরভূম, হুগলি, মালদহ, নদিয়া, দুই মেদিনীপুর ও পূর্ব বর্ধমান।
পরিস্থিতির জন্য বহু ক্ষেত্রে মানুষের অসতর্কতাকেই দায়ী করছেন স্বাস্থ্য কর্তারা। একই সঙ্গে বহু ক্ষেত্রে এভিএস কার্যকর হচ্ছে না বলেও খবর।
অসতর্কতার বিষয়ে সম্প্রতি আমতলায় এক ১০ বছরের কিশোরকে সাপে কামড়ানোর প্রসঙ্গটি আনছেন। পরিবারের তরফে তাকে স্থানীয় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলে। চিকিৎসকরা বুঝেছিলেন, কালাচের কামড়। অভিযোগ, সঙ্গে সঙ্গেই অ্যান্টিভেনম দিতে চাইলে বাধা দেন কিশোরের বাবা। অভিযোগ, তিনি চিকিৎসকদের কথা না শুনে তর্কে জড়ান, “কামড়ের দাগই নেই, তবে সাপে কাটল কী করে?”
চিকিৎসকদের বোঝানো, “কালাচে দাগ থাকে না সবসময়”, তা সত্ত্বেও তিনি শোনেননি বলে অভিযোগ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরি। শেষমেশ ছেলেকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে রেফার করা হলেও রাস্তাতেই মারা গেল কিশোর।
সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, এমন ঘটনা নতুন নয়। কখনও পরিবার এভিএস দিতে দেয় না, কখনও ওঝা–গুণিনের ঘরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটে, আবার কখনও এভিএস কাজ করে না, এসব কারণেই সাপে কেটে মৃত্যুর হার থামছে না বাংলায়।
এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বক্তব্য, দক্ষিণবঙ্গে চন্দ্রবোড়ার ছোবলে এভিএস কার্যকর হচ্ছে না, এটা প্রমাণিত। অথচ এখনও বাংলার জন্য আলাদা অ্যান্টিভেনম তৈরি করতে কোনও সংস্থা এগোয়নি। দুই-তিন বছর ধরে টেন্ডার চলছে, কিন্তু সমাধান আসেনি।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, সাপ থেকে বিষ সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছে মনসা বায়োটেক। কিন্তু সেই বিষ দিয়ে এভিএস তৈরির সংস্থা বাছাইয়ের কাজ মাসের পর মাস ঝুলে রয়েছে বলে অভিযোগ। যার ফলে সাপের কামড়ে গ্রামে–গঞ্জে অকালে বহু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ।