শনিবার কোনওরকমে ডোমজুরের ওই ফ্ল্যাট থেকে পালাতে সক্ষম হন তিনি। তারপরই খড়দা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে তাঁর পরিবার।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 June 2025 00:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পর্নোগ্রাফিতে অভিনয় করতে না চাওয়ায় মহিলার ওপর অকথ্য অত্যাচার চালাল এক যুবক ও তার মা। একটি ফ্ল্যাটে পাঁচ-ছ’মাস ধরে তাঁকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। মাঝে দিনের পর দিন মহিলাকে খেতেও দেওয়া হতো না। মারধর করে হাত, পা এমনকী দাঁত পর্যন্ত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা থেকে সামনে এল অকথ্য নির্যাতনের এমনই এক ঘটনা।
ঘটনার সূত্রপাত, হাওড়ার আরিয়ান খান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পানিহাটির ওই মহিলার আলাপ হয়। ডোমজুরের ওই ব্যক্তি তাঁকে বেশি রোজগারের সুযোগে কাজ দেবেন বলে জানান। মহিলা আগে এক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিতে কাজ করতেন। আরিয়ানকে বিশ্বাস করে তিনি হাওড়ায় এসে ওঠেন। ডোমজুরে আরিয়ানের ফ্ল্যাটেই তাঁকে আটকে রাখা হয়।
ওই মহিলার পরিবারের দাবি, আরিয়ান এবং তার মা শ্বেতা খান পর্নোগ্রাফি ভিডিও বানাত। শ্বেতা পেশায় একজন বার ডান্সার। মা-ছেলের ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফ্ল্যাটে আটকে রেখে তাদের মেয়ের ওপর অত্যাচার শুরু হয়। এমনকী মহিলার গোপনাঙ্গে লোহার রড ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করেছে অভিযুক্ত।
শনিবার কোনওরকমে ডোমজুরের ওই ফ্ল্যাট থেকে পালাতে সক্ষম হন তিনি। তারপরই খড়দা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে তাঁর পরিবার।
মহিলার পরিবারের এক সদস্য এও জানান যে, লোহার রড দিয়ে এতটাই মারধর করা হয়েছে তাঁদের মেয়েকে যে সে উঠে দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছিল না। মাথায়, হাতে, পায়ে, কোমরে একাধিক আঘাত রয়েছে। বর্তমানে ওই মহিলা সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। সূত্র মারফত জানা গেছে, অভিযুক্ত মা-ছেলের একটি প্রোডাকশন হাউস রয়েছে, নাম ‘ইশারা এন্টারটেনমেন্ট’। ২০২১ সালে তার একটি ইউটিউব চ্যানেলও খোলা হয়। তাতে মোট চার বছরে আপলোড হয়েছে মাত্র ১১টি মিউজিক ভিডিও। তা থেকেই সন্দেহ বাড়তে থাকে।
সূত্র আরও বলছে, ওই প্রোডাকশন হাউসের আড়ালে চলত পর্নোগ্রাফিক চক্র। মা-ছেলে ওই এলাকায় বেশ প্রভাবশালী বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের কথা অনুযায়ী, যে-ই তাদের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদ জানাত, আরিয়ান থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করত। এদিকে তার নিজেরই নানারকম অ্যান্টিসোশ্যাল কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ মিলেছে। তারা যে ফ্ল্যাটে থাকত, তার ভাড়াও দিত না। বারে ডান্সার হওয়ার সুবাদে স্থানীয় এলাকায় শ্বেতা ‘ফুলটুসি বেগম’ নামে পরিচিত।
নির্যাতিতা মহিলার পরিবারের তরফে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ হাওড়ার ওই ফ্ল্যাটে হানা দেয়। কিন্তু তাদের কোনও খোঁজ মেলেনি। তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে সন্দেহ পুলিশের।
মেয়ের ওপর অকথ্য ওই অত্যাচারের পর, মহিলার মা অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।