ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক মহিলাকে ঘুমের ওষুধ (Sedative) খাইয়ে ধর্ষণের (Rape) অভিযোগ উঠল হাসপাতালেরই এক কর্মীর (Hospital Nursing Staff) বিরুদ্ধে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 June 2025 14:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের আলওয়ারে (Rajasthan Medical College) ইএসআইসি মেডিক্যাল কলেজে সাংঘাতিক ঘটনা। ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক মহিলাকে ঘুমের ওষুধ (Sedative) খাইয়ে ধর্ষণের (Rape) অভিযোগ উঠল হাসপাতালেরই এক কর্মীর (Hospital Nursing Staff) বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা ছিলেন ওয়ার্ডের ঠিক বাইরেই। অভিযোগ, প্রথমে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত গড়ালে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩২ বছর বয়সি ওই মহিলা গত ৪ জুন রাতে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। অভিযোগ, রাতের দিকে এক নার্সিং কর্মী পর্দা টেনে তাঁর বিছানার চারদিক ঘিরে দেয়। তারপর ওই মহিলাকে একটি ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়। যখন তিনি প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন, সেই সুযোগে মহিলার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়।
পরে ঘুমের ঘোরে স্বামীর নাম ধরে ডাকতে থাকেন ওই মহিলা। আইসিইউ-র অন্য কর্মীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বামীকে ওয়ার্ডে ডাকেন। গোঙানির মতো করে ওই মহিলা কিছু একটা বলার চেষ্টা করছিলেন। যদিও সেই অস্পষ্ট কথা ধরতে পারেননি তাঁর স্বামী। ভোরবেলা ঘুম ভাঙার পর গোটা ঘটনার কথা পরিবারকে জানান ওই মহিলা। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটে যান তাঁর স্বামী।
অভিযোগ, প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গোটা ঘটনা চেপে যেতে চায়। এদিকে চাপে পড়ে অভিযুক্ত নিজেই ওই মহিলা ও তাঁর পরিবারের কাছে ক্ষমা চান। তবুও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
শেষপর্যন্ত নির্যাতিতার পরিবার স্থানীয় অতিরিক্ত জেলাশাসকের দ্বারস্থ হন। তিনিই পুলিশের কাছে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপরই মহিলা ও তাঁর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।
আলওয়ার থানার সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর মহাবীর সিং জানান, "ঘটনার পর মহিলা ও তাঁর পরিবারের বয়ান নেওয়া হয়েছে। মেডিক্যাল পরীক্ষাও করা হয়েছে।" অন্যদিকে আইসিইউ-তে ভর্তি অন্য এক মহিলার স্বামীও জানিয়েছেন, "রাতের দিকে নার্সদের কার্যকলাপে সন্দেহজনক কিছু আচরণ নজরে আসে। কিছু একটা ঘটেছে বলে মনেই হচ্ছিল।"
তদন্তে নেমেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে তারা। ঘটনার পর মেডিক্যাল কলেজের ডিন ডা: অসীম দাস জানান, "আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামী শনিবারের মধ্যে তারা রিপোর্ট জমা দেবে। যে দোষী প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সেইসঙ্গে নির্যাতিতার পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি, মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।