উত্তরবঙ্গের শিক্ষা পরিকাঠামো পুনর্গঠনে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পাহাড় থেকে সমতল— সব জেলার ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ পরিবেশ ফেরাতে আপাতত সেই দিকেই নজর প্রশাসনের।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 21 October 2025 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল বর্ষণ, ধস আর নদীর ফুলে ওঠা জলে (Natural Disaster) লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) বিস্তীর্ণ এলাকা। তাতে রাস্তা, সেতু, ঘরবাড়ি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত, তেমনি ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে শিক্ষা পরিকাঠামোরও। প্রশাসন সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের চার জেলা— দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে মোট ১৭৩টি স্কুল (173 schools) প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কোথাও শ্রেণিকক্ষের দেওয়াল ফাটল ধরা, কোথাও সিঁড়ি ও সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে, আবার কোথাও ছাদ বা টয়লেট ভেঙে পড়েছে। তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Chief Minister Mamata Banerjee) নির্দেশে স্কুলগুলির দ্রুত সংস্কারের (Renovation Drive) কাজ শুরু করছে শিক্ষা দফতর। পুজোর ছুটির মধ্যেই মেরামতের কাজ সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনকে তৎপর হতে বলা হয়েছে।
গত সপ্তাহেই দার্জিলিংয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাথমিক স্কুল, হাইস্কুল ও কলেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।” তাঁর নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত রিপোর্ট সংগ্রহ করেছে শিক্ষা দফতর।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলির মধ্যে ৯৪টি প্রাথমিক স্কুল, বাকি ৭৯টি হাইস্কুল। সর্বাধিক ক্ষতি হয়েছে দার্জিলিং জেলায়— পাহাড়ি এলাকায় ৩০টিরও বেশি স্কুল আক্রান্ত। তার মধ্যে ২০টি হাইস্কুল ও ১২টি প্রাথমিক স্কুল। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে দার্জিলিং শহর, রংভি, সুখিয়াপোখরি, ঘুম, লামাহাটা, দুধিয়া, টুংসুং, পানিঘাটা প্রভৃতি।
এক প্রশাসনিক আধিকারিক জানিয়েছেন, “একটি প্রাথমিক স্কুলে ছাত্রছাত্রী না থাকলেও টয়লেট সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে। একটি স্কুলে পাহাড়ের মাটি ও বড় পাথর নেমে পড়ায় ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় দশটি স্কুলের দেওয়াল, তিন-চারটি স্কুলের ছাদ, দু’টির পিলার ও পাইপলাইন, কয়েকটি স্কুল ও হোস্টেলের টয়লেট ভেঙে পড়েছে।”
এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলির ছবি তুলে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়েছে। দার্জিলিং জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক ও হাইস্কুল) তাপস বিশ্বাস বলেন, “ব্লক প্রশাসনের সহযোগিতায় তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, শীঘ্রই সংস্কার কাজ শুরু হবে।”
অভিভাবকদের দাবি, স্কুলে এখন পুজোর ছুটি চলছে। এই সময়টাকেই কাজে লাগিয়ে সংস্কারের কাজ শেষ করা উচিত। না হলে স্কুল খোলার পর পড়ুয়াদের বিপজ্জনক ভবনে ক্লাস করতে হবে, যা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করবে।
উত্তরবঙ্গের শিক্ষা পরিকাঠামো পুনর্গঠনে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পাহাড় থেকে সমতল— সব জেলার ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ পরিবেশ ফেরাতে আপাতত সেই দিকেই নজর প্রশাসনের।