কমিশনের অবস্থান এবার পরিষ্কার, ভুলের তালিকা দীর্ঘ হলে আর সময় দেওয়া হবে না, সিদ্ধান্ত নিতেও এক মুহূর্ত দেরি করবে না কমিশন।

ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী।
শেষ আপডেট: 18 November 2025 18:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় (SIR) সামান্যতম ঢিলেমিও (Negligence) যে বরদাস্ত করা হবে না, তা সোমবারই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের সব রাজ্যের সিইও এবং নির্বাচনী আধিকারিকদের স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEO , Election Commission) জ্ঞানেশ কুমার। সেই সতর্কবার্তার রেশ থাকতে থাকতেই মঙ্গলবার কলকাতায় এসে আরও দৃঢ় ভাষায় একই কথা জানালেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী।
এদিন উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার নির্বাচনী কর্তার সঙ্গে পরপর বৈঠক করেন তিনি। সোজাসাপ্টা জানিয়ে দেন, “মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার বা ভুয়ো ভোটারের নাম তালিকায় থাকলে দায় এড়াতে পারবেন না কেউই। বিএলও থেকে শুরু করে সিইও— (BLO, CEO ) সকলের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ হবে।’’
কমিশনের অবস্থান এবার পরিষ্কার, ভুলের তালিকা দীর্ঘ হলে আর সময় দেওয়া হবে না, সিদ্ধান্ত নিতেও এক মুহূর্ত দেরি করবে না কমিশন।
বৈঠকে পিপিটি দেখিয়ে নির্বাচনী আধিকারিকেরা জানান, এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় কীভাবে কাজ শুরু হয়েছে, বর্তমানে কীভাবে চলেছে এবং আগামী দিনে কোন পথে এগোবে গোটা ব্যবস্থা।
ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, বিএলএ যখন এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করে বিএলও-র হাতে দিচ্ছেন, তখন তাঁকে ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারায় লিখিত ঘোষণা দিতে হচ্ছে— ভুল বা মিথ্যে তথ্য দিলে তার দায় একমাত্র তিনিই বহন করবেন। এরপর বিএলও মোবাইল অ্যাপে স্ক্যান করে তা আপলোড করবেন কমিশনের পোর্টালে। আর সেখানেই শুরু আরও কঠোর পরীক্ষা।
কমিশন ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে একটি বিশেষ এআই-চালিত অ্যাপ, যা কয়েক সেকেন্ডেই ফর্মের অসঙ্গতি বা গরমিল চিহ্নিত করতে সক্ষম। গরমিল ধরা পড়লেই ডেকে পাঠানো হবে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে। কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, “শুধু বিএলএ বা বিএলও নন, ভোটার নিজেও ভুল বা মিথ্যে তথ্য দিলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২টি রাজ্যে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট, কোথাও কোনো গাফিলতি বরদাস্ত নয়। পশ্চিমবঙ্গে বিরোধীদের আনা অভিযোগের প্রেক্ষিতেই কমিশন জানিয়ে দিয়েছে— ১০০% স্বচ্ছতা বজায় রেখে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।
এখন প্রশ্ন একটাই— কমিশন যতই কঠোর অবস্থান নিক, আদৌ কি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রকাশ পাবে একেবারে নির্ভুল, “১০০% স্বচ্ছ” ভোটার তালিকা? রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও এখন সেই নিয়েই চূড়ান্ত কৌতূহল।